📌 দুদক ইসলামী ব্যাংক থেকে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ১৪১ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগে অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিদেশে সম্পদ অর্জনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে
ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০২৬: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ মোট ২৯ জনের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে। দুদকের নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুদকের তিন মামলায় আসামি করা হয়েছে মোট ২৯ জনকে
- 📌 ইসলামী ব্যাংক থেকে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ
- 📌 তিনটি ঘটনায় মোট ২৭টি ডিলের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন ও বিদেশে স্থানান্তর
- 📌 অভিযোগে সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে অর্থ আত্মসাতের প্রধান সুবিধাভোগী হিসেবে উল্লেখ
- 📌 আরামিট সিমেন্ট পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
📰 বিস্তারিত
দুদক জানায়, আরামিট সিমেন্ট পিএলসি সিমেন্টের কাঁচামাল কেনার নামে কোনো প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয় না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার দাখিল করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বিভিন্ন শাখা থেকে অর্থ গ্রহণ করে। এর মধ্যে প্রথম ঘটনায় ২০১৮ সালের ২০ মার্চ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, আগ্রাবাদ শাখার গ্রাহক ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে একটি ডিলের মাধ্যমে ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ঘটনায় ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, কামাল বাজার শাখার গ্রাহক ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে ১৭টি ডিলের মাধ্যমে ৪১ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। তৃতীয় ঘটনায় ২০২০ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত সময়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, সদরঘাট শাখার গ্রাহক ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে নয়টি ডিলের মাধ্যমে ৪২ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের মালিক ও তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ অনুমোদনে ভূমিকা রাখেন। পরে আরামিট গ্রুপের কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে ভুয়া সরবরাহকারী দেখিয়ে ডিল অনুমোদন করানো হয়। অনুমোদিত ঋণের অর্থ বিভিন্নভাবে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের পর নগদে উত্তোলন, পূর্বের দায় পরিশোধ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
"আরামিট গ্রুপের মালিক ও তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ অনুমোদনে ভূমিকা রাখেন। পরে আরামিট গ্রুপের কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে ভুয়া সরবরাহকারী দেখিয়ে ডিল অনুমোদন করানো হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইফুজ্জামান চৌধুরী, রুকমীলা জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ জন, ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!