📌 জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশের ডলার ব্যয় এক বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। পরিশোধিত জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন
জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় এক বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা পরের অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে। এ হিসাবে এক বছরে ব্যয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। দেশের মোট আমদানি ব্যয় যেখানে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, সেখানে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির হার ছিল ১০৭ শতাংশ। ফলে গত অর্থবছরে মোট ৭১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির মধ্যে প্রতি সাত ডলারের প্রায় এক ডলার ব্যয় হয়েছে জ্বালানি ক্রয়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি
- 📌 পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধির হার ছিল ১০৯ শতাংশ, যা মোট জ্বালানি ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ
- 📌 অপরিশোধিত তেল আমদানিতেও ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৯২ শতাংশ
- 📌 গ্যাস সরবরাহ সংকটে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রায় ৬২ লাখ ২০ হাজার টন জ্বালানি আমদানি হয়েছিল। এর মধ্যে ৭৬ শতাংশ ছিল পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে আমদানি হয়েছে ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টন, যা আগের অর্থবছরের প্রায় কাছাকাছি। আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যয় দ্রুত বেড়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবেও ব্যয়ের পার্থক্য স্পষ্ট। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল ৫২ কোটি ডলার, যা পরের বছরের একই মাসে বেড়ে হয় ৭৩ কোটি ডলার। জানুয়ারিতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ কোটি ডলার, এপ্রিলে ১৩৪ কোটি ডলার এবং জুনে তা বেড়ে হয় ১৬০ কোটি ডলার।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্বলতা রয়ে গেছে। গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। পরিবহন খাতেও জ্বালানি ব্যয়ের প্রভাব পড়ছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যা সমাধানে পূর্ববর্তী বিশ্লেষণগুলো কাজে লাগানো উচিত। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কোম্পানির পাওনা ডলারের সঙ্গে যুক্ত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বৃদ্ধি পায়। সময়মতো বিল পরিশোধ না হলে বকেয়া বাড়ে, যার প্রভাব সরবরাহ ব্যবস্থায়ও পড়ে।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি না পেলে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হবে। তিনি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, জ্বালানি মজুতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ অবকাঠামো উন্নত করার ওপর জোর দেন। এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে তেমন চাপ না পড়লেও জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে রিজার্ভে চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইএমএফের বিপিএম ৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার, যা পরের বছরের জুনে বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলারে।
"বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন কমিটি ও কারিগরি দল কাজ করেছে। নতুন করে শুধু প্রতিবেদন তৈরি না করে আগের বিশ্লেষণ কাজে লাগানো দরকার। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে করা চুক্তি, সক্ষমতার মূল্য এবং জ্বালানি বিলের বিষয়গুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। স্থানীয় কোম্পানির পাওনা কেন ডলারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, সেটিও দেখা দরকার।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. জাহিদ হোসেন, মোহাম্মদ হাতেম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার (জ্বালানি আমদানি ব্যয়), ১০৭ শতাংশ (ব্যয় বৃদ্ধির হার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!