📌 চট্টগ্রাম কাস্টমসের তদারকিতে জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে মিথ্যা আমদানি ঘোষণায় ৪৬৭টি চালান জব্দ করা হয়। এতে ৫৮ কোটি টাকা জরিমানা ও রাজস্ব আদায় হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাস্টমসের কঠোর তদারকির কারণে অনিয়মগুলো বেশি ধরা পড়ছে
চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা আমদানি ঘোষণার ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম কাস্টমসের তদারকিতে ৪৬৭টি সন্দেহভাজন চালান জব্দ করা হয়েছে। এতে মিথ্যা ঘোষণার ঘটনায় ২৭০টি মামলা দায়ের করে সরকারি কোষাগারে ৫৮ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা ও রাজস্ব আদায় হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **জুলাই-সেপ্টেম্বর** মাসে চট্টগ্রাম কাস্টমস **৪৬৭টি চালান জব্দ** এবং **৫৮ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা আদায়** করেছে মিথ্যা আমদানি ঘোষণার ঘটনায়।
- 📌 **২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে** মাত্র **৩৬১টি চালান জব্দ** করা হয়েছিল, কিন্তু **৫৮ কোটি টাকার তুলনায় ৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকা** জরিমানা আদায় হয়েছিল।
- 📌 **সেপ্টেম্বরে** একটি চালানে **১৩ হাজার ৩৩৫ কেজি অঘোষিত পণ্য** পাওয়া যায়, যার মধ্যে ছিল **সোলার স্ট্রিটলাইট, লিথিয়াম ব্যাটারি, ফুড অ্যাডিটিভস** সহ। এতে **১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা** করা হয়েছিল।
- 📌 **রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ** নামের একটি চালানে **৭২ হাজার ৫০০ কেজি অতিরিক্ত পাইপ** পাওয়া যায়, যার ফলে **১ কোটি ১৪ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির সম্ভাবনা** ছিল।
- 📌 **২০২৫-২৬ অর্থবছরে** মোট **১ হাজার ৪৫১টি চালান জব্দ** এবং **১১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা** জরিমানা আদায় হয়েছে।
- 📌 **বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী** বলেছেন, **"সংঘবদ্ধ চক্র প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে অনিয়ম করা হচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করে"**।
- 📌 **চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরীফ আল আমিন** জানান, **"ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো (এনএসডাব্লিউ) আওতায় সেবা একীভূত করা হচ্ছে"**।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখা তদারকিতে দেখা গেছে, মিথ্যা ঘোষণার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে **পণ্যের পরিমাণ কম দেখানো, ভুল ট্যারিফ ক্লাসিফিকেশন এবং এক পণ্যের আড়ালে উচ্চ শুল্কের পণ্য আনা** এই ধরনের অনিয়ম বেশি ঘটছে।
সেপ্টেম্বরে একটি ঘটনায় **কাউবয় ফুডস কোম্পানি লিমিটেড** চীন থেকে জেনারেটর সেট আমদানির ঘোষণা দিয়েছিল, কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় **১৩ হাজার ৩৩৫ কেজি অঘোষিত পণ্য** পাওয়া যায়। এর মধ্যে ছিল **সোলার স্ট্রিটলাইট, ইনভার্টার, পোর্টেবল পাওয়ার স্টেশন, ফুড অ্যাডিটিভস, টি-সেট ও লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি**। এতে **৪৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা** করা হয়েছিল। কাস্টমস এতে **৫০ লাখ টাকা জরিমানা ও ৫ লাখ টাকা বিমোচন জরিমানা** আরোপ করে।
অন্য একটি ঘটনায় **রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড** চীন থেকে **২ লাখ ৬৪ হাজার ২০৩ কেজি সিমলেস পাইপ** আনার ঘোষণা দেয়। কিন্তু কাস্টমসের পরিদর্শনে **৭২ হাজার ৫০০ কেজি অতিরিক্ত পাইপ** পাওয়া যায়, যা **২৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি**। এতে **১ কোটি ১৪ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির সম্ভাবনা** ছিল, কিন্তু কাস্টমস **১ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১৫ লাখ টাকা বিমোচন জরিমানা** আরোপ করে।
এছাড়াও, **স্ক্র্যাপের আড়ালে দামি গাড়ি ও যন্ত্রপাতি, মডেলিং ক্লে-র আড়ালে প্রসাধনী এবং সাধারণ পণ্যের আড়ালে স্মার্টফোন** আনার মতো জালিয়াতিও ধরা পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, **"কাস্টমসের কঠোর আইন প্রয়োগ ও তদারকির কারণে অতীতে অধরা থেকে যাওয়া জালিয়াতিগুলো এখন বেশি ধরা পড়ছে"**।
"বিগত চার দশকের পেশাগত অভিজ্ঞতায় মিথ্যা ঘোষণার বিরুদ্ধে এত ব্যাপক তদারকি ও মামলা আগে দেখিনি। কাস্টমসের গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদায়ন এবং নজরদারি নজিরবিহীনভাবে জোরদার করার কারণেই অনিয়মগুলো বেশি ধরা পড়ছে।"
— **কাজী মাহমুদ ইমাম**, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম; রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ (রংপুর); কাউবয় ফুডস কোম্পানি (চীন থেকে আমদানি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজী মাহমুদ ইমাম, নাসির উদ্দিন চৌধুরী, শরীফ আল আমিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৮ কোটি ২০ লাখ টাকা (জরিমানা), ৪৬৭টি চালান জব্দ, ২৭০টি মামলা, ১৩ হাজার ৩৩৫ কেজি অঘোষিত পণ্য, ৭২ হাজার ৫০০ কেজি অতিরিক্ত পাইপ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!