📌 কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় ২২০টি আলোক ফাঁদ স্থাপিত হলেও কৃষকরা পরিবেশবান্ধব পোকা দমন পদ্ধতিতে আস্থা রাখছেন না। পোকা শনাক্ত হলেও কীটনাশক ছাড়াই ধান রক্ষার পদ্ধতি গ্রহণে তাদের সংশয় রয়ে গেছে
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় পরিবেশবান্ধব পোকা দমন পদ্ধতি হিসেবে আলোক ফাঁদ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কৃষকদের মধ্যে এ পদ্ধতিতে আস্থা তৈরি হচ্ছে না। আলোক ফাঁদে পোকা ধরা পড়লেও কীটনাশক ছাড়াই ধান রক্ষার পদ্ধতি গ্রহণে তাদের সংশয় অব্যাহত রয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভৈরব পৌরসভা ব্লকের দড়িচন্ডিবের এলাকায় স্থাপিত একটি আলোক ফাঁদ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, সবুজ পাতা ফড়িং, খাটো ঘাসফড়িংসহ বিভিন্ন ধরনের পোকা ধরা পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভৈরব উপজেলায় ২২০টি আলোক ফাঁদ স্থাপিত, এর মধ্যে ১৭৫টি বসানো হয়েছে, প্রতিটি ফাঁদের এলাকা ২০ হেক্টর জমি
- 📌 আলোক ফাঁদে ২টি মাজরা পোকা, ৩টি পাতা মোড়ানো পোকা, ৩টি সবুজ পাতা ফড়িং, ২৫টি খাটো ঘাসফড়িং ও ৩টি অপরিচিত পোকা ধরা পড়েছে
- 📌 ৬৫ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষকারী কৃষক মুরাদ মিয়া বলেছেন, ‘পোকা মারার বিষ না দিলে ধান রক্ষা হবে কীভাবে?’
- 📌 ২২টি ব্লকে ২২০টি আলোক ফাঁদ স্থাপনের উদ্যোগে, প্রতিবার এক থেকে দেড় ঘণ্টা করে ফাঁদ বসানো হয়
- 📌 কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন, পোকা শনাক্ত হলেও কীটনাশক ছাড়াই পার্চিং পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে
📰 বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় পরিবেশবান্ধব পোকা দমন পদ্ধতি হিসেবে আলোক ফাঁদ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কৃষকদের মধ্যে এ পদ্ধতিতে আস্থা তৈরি হচ্ছে না। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভৈরব পৌরসভা ব্লকের দড়িচন্ডিবের এলাকায় স্থাপিত একটি আলোক ফাঁদ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, সবুজ পাতা ফড়িং, খাটো ঘাসফড়িংসহ বিভিন্ন ধরনের পোকা ধরা পড়েছে। তবে ধানের অন্যতম ক্ষতিকর পোকা বাদামি গাছফড়িং পাওয়া যায়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, আলোক ফাঁদ নিয়ে কৃষকদের আগ্রহ আছে, তাঁরা ফাঁদ দেখতে আসেন এবং কর্মকর্তাদের কথাও শোনেন। কিন্তু ধানখেতে পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহার না করার পরামর্শে অনেকেরই ভরসা হয় না। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো বিষ না দিলে পোকা ধান নষ্ট করে ফেলতে পারে।
৬৫ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষকারী কৃষক মুরাদ মিয়া বলেন, ‘আলো জ্বালিয়ে পোকা ধরা পড়লেও আমার একটাই প্রশ্ন, পোকা মারার বিষ না দিলে ধান রক্ষা হবে কীভাবে?’ তিনি জানান, তাঁর মতো অন্তত ২০ জন কৃষক সেদিন ফাঁদ দেখতে জড়ো হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নারী কৃষকও ছিলেন।
কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন, পোকা শনাক্ত হলেও কীটনাশক ছাড়াই পার্চিং পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। পার্চিং হলো ধানখেতে বাঁশের কঞ্চি বা গাছের ডাল পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা। এতে পোকাখেকো পাখি ক্ষতিকর পোকা খেতে পারে।
"আলোক ফাঁদে আলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে আসা পোকা শনাক্ত করা যায়। এসব তথ্য ও জমি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হয়। তবে ফাঁদে কোনো নির্দিষ্ট পোকা পাওয়া না গেলেই যে আশপাশের জমিতে সেই পোকা নেই, তা পুরোপুরি নিশ্চিত করে বলা যায় না।"
২২টি ব্লকে ২২০টি আলোক ফাঁদ স্থাপনের উদ্যোগে, এর মধ্যে ১৭৫টি ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ফাঁদের পর্যবেক্ষণ এলাকা ২০ হেক্টর জমি। ফাঁদগুলো স্থায়ীভাবে রাখা হয় না। প্রতিবার এক থেকে দেড় ঘণ্টা করে ফাঁদ বসানো হয়। একই স্থানে দ্বিতীয়বার ফাঁদ বসানো হয় না। পরে পোকা পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হলে কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে ফাঁদ স্থাপন করতে পারেন।
কৃষক নবী হোসেন বলেন, ‘আমি সাধারণত প্রায় আড়াই হাজার টাকার কীটনাশক লাগাতাম। এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ মেনে মাত্র ৮০০ টাকার কীটনাশক ব্যবহার করেছি। এখন পর্যন্ত আমার ধানের অবস্থা ভালো আছে।’ অন্যদিকে, কৃষক জহির মিয়া বলেন, ‘স্যারদের কথা ঠিক আছে। তবে কিছু বিষ না দিলে কেমনে হয়? আবার যদি সব ধান খাইয়া ফেলে?’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভৈরব উপজেলা, কিশোরগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিজানুর রহমান (উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা), মুরাদ মিয়া, নবী হোসেন, জহির মিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫ শতাংশ (মুরাদ মিয়ার জমি), ২০ জন (কৃষক), ২২০টি (আলোক ফাঁদ), ১৭৫টি (বসানো ফাঁদ), ২২টি (ব্লক), ২০ হেক্টর (প্রতিটি ফাঁদের এলাকা), ৮০০ টাকা (কীটনাশক খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!