📌 নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারি ব্যবসায়ীরা শীতের মৌসুমে ১০০ কোটি টাকার ব্যবসার লক্ষ্য নিয়ে গরম কাপড়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু উৎপাদন ব্যয়ে ২০-২৫ শতাংশ বৃদ্ধির কারণে লাভ কমে যাচ্ছে। শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেড়েছে এবং কিছু ব্যবসায়ী রপ্তানি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারি ব্যবসায়ীরা শীতের মৌসুমে ১০০ কোটি টাকার ব্যবসার লক্ষ্য নিয়ে গরম কাপড়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই মৌসুমে স্থানীয় অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব ফেলবে। শীতের পোশাকের মৌসুম তিন মাসের—নভেম্বর থেকে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত। তবে শীতের ওঠানামায় বিক্রি কমবেশি হয়ে থাকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারি ব্যবসায়ীরা ১০০ কোটি টাকার ব্যবসার লক্ষ্য নিয়ে গরম কাপড়ের স্টক করছেন।
- 📌 শীতের মৌসুমে প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।
- 📌 শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেড়েছে এবং স্কুলের জন্য জ্যাকেটের বিক্রি বেশি হচ্ছে।
- 📌 উৎপাদন ব্যয়ে ২০-২৫ শতাংশ বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীরা লাভ কমে যাচ্ছেন।
- 📌 নেপাল ও ভুটানে রপ্তানি করার জন্য সরকার করচাড় দিলে ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
- 📌 প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার শ্রমিক মৌসুমভিত্তিকভাবে কাজ করছেন।
- 📌 বিদ্যুৎ সংকটের কারণে প্রায় ৩ হাজার কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারি ব্যবসায়ীরা শীতের মৌসুমে গরম কাপড়ের স্টক করছেন। দেওভোগ কাটা কাপড় মার্কেট, জমু মার্কেট, উকিলপাড়া, নন্দিপাড়া ও নয়ামাটির ব্যবসায়ীরা গরম কাপড়ের স্টক করছেন। বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ বদিউজ্জামান বদু বলেছেন, এই মৌসুমে স্থানীয় অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব ফেলে। প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়।
দেওভোগ পোশাক প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মো. কবির হোসেন খান বলেছেন, তারা রপ্তানি অনুমোদনের জন্য কাজ করছেন। স্থানীয়ভাবে তৈরি সোয়েটার ও ফ্লিস জ্যাকেটের মান খুব ভালো। সরকার করচাড় দিলে তারা নেপাল ও ভুটানে রপ্তানি শুরু করতে পারবেন।
শীতের পোশাকের তালিকায় রয়েছে জ্যাকেট, সোয়েটার, মাফলার, শাল, চাদর—যা ডেনিম, নিট ও উলের কাপড় দিয়ে তৈরি হয়। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা পোশাক তৈরির পাশাপাশি বাচ্চাদের জন্যও বাহারি সব শীতের পোশাক বাজারে দেখা যায়।
নারায়ণগঞ্জের পাইকারি বাজারগুলো সারগরম। উকিলপাড়া, দেওভোগ, নয়ামাটি ও গিরিধারা এলাকা উৎসবমুখর কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকাররা ছুটে আসছেন ‘গার্মেন্টসের শহর’ খ্যাত নারায়ণগঞ্জে।
শ্রমিক মমতাজ বেগম বলেছেন, এই সময়টা ভালো যায়, বেতনও কিছু বাড়ে, তবে ডিসেম্বরের পর আবার কাজ কমে যায়। কারখানা মালিক আমজাদ হোসেন বলেছেন, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে রাত-দিন কাজ করছেন। এ সময়ই আসল ইনকাম। তবে উৎপাদনব্যয় বেড়েছে। সুতা ও ফ্লিসের দাম বেড়েছে ২০-২৫ শতাংশ।
বিক্রেতা বিপ্লব হোসেন বলেছেন, গত বছর যে সোয়েটারটা ২৫০ টাকায় বানাতেন, এ বছর সেটা ২৯০ টাকায় পড়ছে। কিন্তু পাইকাররা আগের দামে কিনতে চায়। ফলে মার্জিন কমে গেছে।
"গত কয়েক বছর শীত একেবারে দেরিতে এসেছে। শীত না পড়লে স্টক পড়ে থাকে, লাভ তো দূরের কথা, পুঁজিও ফেরত আসে না।"
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেছেন, শীতের মৌসুমে রিকশাচালক থেকে হকার—সবাই লাভবান হয়। কিছু উদ্যোক্তা দক্ষিণ এশিয়ার বাজারেও প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলহাজ বদিউজ্জামান বদু, মো. কবির হোসেন খান, মমতাজ বেগম, আমজাদ হোসেন, বিপ্লব হোসেন, ফারুক আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ কোটি টাকা, ২৫-৩০ হাজার শ্রমিক, ২০-২৫ শতাংশ, ২৫০ টাকা, ২৯০ টাকা, ৩ হাজার কারখানা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!