📌 বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কাজ শুরু করেছে। আগামী দুই-তিন মাসে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানিয়েছেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। গতকাল সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত ‘দেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান স্বীকার করেছেন, গত দুই মাসে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারেনি
- 📌 আগামী নভেম্বর থেকে এমএসসিআই বাংলাদেশ সূচক পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা
- 📌 বিএসইসি পুঁজিবাজারের ‘পেইন পয়েন্ট’ হিসেবে পরিচিত ফ্লোর প্রাইস তুলে দিয়েছে
- 📌 ব্র্যাক ব্যাংক ১ হাজার কোটি টাকার সোশ্যাল বন্ড বাজারে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে
- 📌 আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কয়েকটি ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন মাসুদ খান
- 📌 ডিএসই নতুন ইস্যুয়ারদের উৎসাহিত করতে লিস্টিং ফি সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ কমিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে
- 📌 আগামী বছরের মার্চের মধ্যে আইপিও বা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদনকারীরা আরও ৫০ শতাংশ ছাড় পাবেন
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানিয়েছেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কাজ শুরু হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বাজারের সূচক বা লেনদেন বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ না দিয়ে ন্যায্য, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল বাজার প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করছে। তিনি বলেন, বিএসইসির মূল দায়িত্ব হলো বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
মাসুদ খান জানান, গত দুই মাসে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারেনি। তবে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে আরও কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে, যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট অনেকটা দূর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম, ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, ডিবিএর সিনিয়র সহসভাপতি মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি আল মারুফ খান, ডিবিএর সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী, বিএমবিএর সভাপতি ইফতেখার আলম, ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন ও রিচার্ড ডি রোজারিও প্রমুখ।
বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে পরিচিত ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মরগ্যান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল (এমএসসিআই) বাংলাদেশ সূচক স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আগামী নভেম্বর থেকে তা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া বেক্সিমকো ফার্মার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত জিডিআর নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতার সমাধান হয়েছে।
মাসুদ খান বলেন, শুধু জরিমানা করে সিসিএ ঘাটতি মোকাবিলা করা কঠিন। তাই ব্রোকারেজ হাউসগুলোর তদারকিতে ঝুঁকিভিত্তিক ব্যবস্থা ও নিয়মিত ‘সারপ্রাইজ ইন্সপেকশন’ চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি জানান, বাজারের সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই বিএসইসি ও ডিএসই এআইভিত্তিক সার্ভিল্যান্সে যাবে বলে তিনি জানান।
"বাজারের সূচক বা লেনদেন বাড়ানো নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ নয়। একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও টেকসই পুঁজিবাজার নিশ্চিতের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়াই বিএসইসির মূল দায়িত্ব।"
ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, নতুন কোম্পানি ও বন্ড তালিকাভুক্তির প্রধান বাধা ছিল উচ্চ লিস্টিং ফি। নতুন ইস্যুয়ারদের উৎসাহিত করতে ডিএসই এই ফি সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ কমিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে। তিনি জানান, ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে আইপিও বা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদনকারীরা নির্ধারিত ফিতে আরও ৫০ শতাংশ ছাড় পাবেন।
বন্ড মার্কেটেও নজর দিয়েছে বিএসইসি। এরই মধ্যে এর লেনদেনের ফি কমানো হয়েছে। যার কারণে ব্র্যাক ব্যাংক ১ হাজার কোটি টাকার একটি সোশ্যাল বন্ড বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে এবং বন্ডটি ডিএসইর মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে। আগামী এক বছরে ডিএসইর মূল বোর্ডে আরও অনেক বন্ড তালিকাভুক্ত হবে বলে আশা করেন তিনি।
আইপিও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে নতুন বিধিতে ‘এক্সটেন্ডেড অডিট’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কোম্পানির সম্পদ, জমি, যন্ত্রপাতি, পাওনা, দায়সহ আর্থিক বিবরণীর বাস্তবতা যাচাই করা হবে। ডাইরেক্ট লিস্টিং রেগুলেশনের কাজও প্রায় শেষ হয়েছে, যার বাস্তবায়ন শুরু হলে কোনো কোম্পানি আইপিও প্রক্রিয়ায় না গিয়েও নির্দিষ্ট অংশের শেয়ার বাজারে ছেড়ে দু-তিন মাসে তালিকাভুক্ত হতে পারবে।
সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি ক্লিয়ারিং কোম্পানি (সিসিবিএল) কার্যকর করতে আগামী এক মাসের মধ্যে এর বোর্ড পুনর্গঠন করার কথাও জানান মাসুদ খান। স্ক্রিপ্ট নেটিং ও টি+১ নিষ্পত্তি চালুর কাজও এগিয়ে চলছে। ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল ও বিদেশি কাস্টডিয়ান ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে রোডম্যাপ করা হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ টি+১ চালুর চেষ্টা থাকবে বলে জানান তিনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রাঙ্গণ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাসুদ খান, বিএসইসি চেয়ারম্যান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ শতাংশ (লিস্টিং ফি কমানো), ১৫ লাখ টাকা (সর্বোচ্চ লিস্টিং ফি), ৫০ শতাংশ (অতিরিক্ত ছাড়), ১ হাজার কোটি টাকা (সোশ্যাল বন্ড)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!