📌 বেনাপোল স্থলবন্দরে রাজস্ব ফাঁকি ও মিথ্যা ঘোষণা প্রতিরোধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি দেখা দেয়। চারটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত ও ৩০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ধরা পড়ে
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউসে রাজস্ব ফাঁকি ও মিথ্যা ঘোষণা প্রতিরোধে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সন্দেহজনক পণ্যচালানের শতভাগ কায়িক পরীক্ষা, বিশেষ অভিযান এবং ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য শনাক্তে কাস্টমসের আইআরএম টিম কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ফলে একেকটি চালান পরীক্ষা ও খালাসে তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বেনাপোল কাস্টম হাউসে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি দেখা দেয়
- 📌 রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে মিথ্যা ঘোষণা ও ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানির অভিযোগে ১৪টি চালান আটক করা হয়
- 📌 আটক চালানগুলোতে প্রায় ৩০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির বিষয় শনাক্ত হয়েছে
- 📌 রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে লিংক ইন্টারন্যাশনাল, রয়েল এন্টারপ্রাইজ, করিম অ্যান্ড সন্স এবং হুদা ইন্টারন্যাশনাল নামের চারটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে
- 📌 ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল দিয়ে ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯ মেট্রিক টন কম
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা
📰 বিস্তারিত
বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান জানান, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সন্দেহজনক চালান শতভাগ পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনো কর্মকর্তা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বৈধ পণ্যচালান দ্রুত খালাসের বিষয়টি কাস্টমসের অগ্রাধিকার। তবে রাজস্ব ফাঁকি বা ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য থাকার সন্দেহ হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী পরীক্ষা সম্পন্ন করেই পণ্য খালাস দেওয়া হবে।
বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি বলেন, আইআরএম টিম যেসব পণ্যচালান পরীক্ষা করে সেগুলোর শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে পণ্য খালাস দেওয়া হয়। এতে সময় কিছুটা বেশি লাগছে। রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে কড়াকড়ির পাশাপাশি বৈধ আমদানিকারকদের দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করার বিষয়েও কাস্টমসকে গুরুত্ব দিতে হবে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বন্ডের কাগজপত্র, গার্মেন্ট ও কেমিক্যালজাতীয় পণ্যের চালানে তুলনামূলিতভাবে বেশি অনিয়মের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এসব চালানের ক্ষেত্রে ঘোষণার সঙ্গে প্রকৃত পণ্য, পরিমাণ ও পণ্যের ধরন মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালান শনাক্ত, পণ্য পরীক্ষা এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে রাজস্ব ফাঁকির বেশ কয়েকটি চেষ্টা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি কাস্টমসের।
"মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক চালান শতভাগ পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনো কর্মকর্তা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈধ পণ্যচালান দ্রুত খালাসের বিষয়টি কাস্টমসের অগ্রাধিকার।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বেনাপোল স্থলবন্দর, যশোর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান (কমিশনার, বেনাপোল কাস্টম হাউস)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা (রাজস্ব ঘাটতি), ৩০ কোটি টাকা (রাজস্ব ফাঁকি), ১৪টি (আটক চালান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!