📌 বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার দুই মাস পার হলেও শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা মেটানো হয়নি। সোমবার রাতে কলকারখানা অধিদপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করে শ্রমিকেরা। পাওনা আদায়ে তাঁদের পরিবারগুলো চরম অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে
বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বন্ধ হওয়ার দুই মাস অতিবাহিত হলেও শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ভাতা প্রদান করা হয়নি। সোমবার রাতে নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সামনে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বন্ধের দুই মাসেও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা মেটানো হয়নি
- 📌 বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকেরা জানান, কারখানা বন্ধের পর থেকে তাঁদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে
- 📌 পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, সন্তানের পড়াশোনা ও বাসাভাড়া পরিশোধ করতে পারছেন না শ্রমিকেরা
- 📌 কলকারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বারবার আশ্বাস পেলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি
- 📌 বিক্ষোভ শেষে কলকারখানা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন শ্রমিক নেতারা
📰 বিস্তারিত
বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর শ্রমিকেরা কর্মহীন হয়ে পড়েন। দুই মাস অতিবাহিত হলেও তাঁদের বেতনসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। ফলে পরিবার নিয়ে চরম অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছেন শ্রমিকেরা। অনেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে পারছেন না, সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
শ্রমিকেরা জানান, কারখানা বন্ধের পর থেকেই তাঁদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দিনের পর দিন অপেক্ষা করার পরও যখন টাকা পাওয়া যায়নি, তখন তাঁরা কলকারখানা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী একাধিক শ্রমিক বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানায় কাজ করেছি। কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আয়রোজগারও বন্ধ হয়ে গেছে। দুই মাস ধরে পাওনা টাকা না পেয়ে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। আমরা কোনো অনুদান চাই না, নিজেদের ন্যায্য পাওনা চাই।’
অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে বাসদ নেতা মনীষা চক্রবর্তী বলেন, কারখানা বন্ধের দুই মাস অতিবাহিত হলেও শ্রমিকেরা তাঁদের পাওনা পাচ্ছেন না। জেলা প্রশাসন, কলকারখানা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে বৈঠক হলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। কলকারখানা কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা না করায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভে নামতে বাধ্য হন।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, শ্রমিকেরা দাবিদাওয়ার কারণে সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে আশ্বাসের ভিত্তিতে তাঁরা সড়ক ছেড়ে দেন।
‘আমরা দীর্ঘদিন কারখানায় কাজ করেছি। এখন কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, আয়রোজগারও বন্ধ। দুই মাস ধরে পাওনা টাকা না পেয়ে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। আমরা কোনো অনুদান চাই না, কাজের ন্যায্য পাওনাটুকু চাই।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আমানতগঞ্জ, বরিশাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শ্রমিকেরা, মনীষা চক্রবর্তী, আল মামুন উল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দুই মাস, দেড় ঘণ্টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!