📌 বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত ৪ শতাংশ স্প্রেডের বিপরীতে ব্যাংক খাতে সুদহারের ব্যবধান জুন শেষে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশে। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে এই ব্যবধান সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ২৭ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে। ফলে ব্যবসায়ীদের ঋণ ব্যয় বৃদ্ধির চাপ অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা সত্ত্বেও ব্যাংক খাতে ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান বা স্প্রেড কমেনি। জুন শেষে ব্যাংক খাতের গড় স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ৪ শতাংশ সীমার চেয়ে ১ দশমিক ৭০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। কোনো কোনো বিদেশি ব্যাংকে এ ব্যবধান ৮ দশমিক ২৭ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্যাংক খাতের গড় স্প্রেড জুন শেষে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সীমা ৪ শতাংশ
- 📌 বিদেশি ব্যাংকগুলোয় স্প্রেড সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ২৭ শতাংশ
- 📌 রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় স্প্রেড ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ, বেসরকারি ব্যাংকে ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ
- 📌 বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোয় স্প্রেড সবচেয়ে কম, ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ
- 📌 ব্যাংকারদের মতে, আমানত সংগ্রহে প্রতিযোগিতা ও খেলাপি ঋণের কারণে স্প্রেড কমানো কঠিন
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তাঋণ ব্যতীত অন্যান্য ঋণে আমানত ও ঋণের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান ৪ শতাংশের মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে জুন শেষে ব্যাংক খাতের গড় স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১ দশমিক ৭০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে এই ব্যবধান আরও প্রকট। জুন শেষে এ খাতের স্প্রেড ছিল ৮ দশমিক ২৭ শতাংশ।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে জুন শেষে আমানতের গড় সুদ ছিল ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ, আর ঋণের সুদ ছিল ১১ শতাংশ। ফলে স্প্রেড দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে আমানতের সুদ ছিল ৬ দশমিক ৫২ শতাংশের বিপরীতে ঋণের সুদ ছিল ১২ শতাংশ, ফলে স্প্রেড ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অন্যদিকে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর স্প্রেড ছিল সবচেয়ে কম, ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ খাতে আমানতের গড় সুদ ছিল ৭ শতাংশ এবং ঋণের সুদ ছিল ১০ শতাংশ।
মে মাসেও ব্যাংক খাতের চিত্র প্রায় একই ছিল। ওই মাসে আমানতের গড় সুদ ছিল ৬ দশমিক ২২ শতাংশ এবং ঋণের গড় সুদ ছিল ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ। ফলে স্প্রেড ছিল ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে সার্বিক স্প্রেডে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।
"ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়াতেই স্প্রেড ৪ শতাংশের মধ্যে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান ঋণ ও আমানতের ব্যবস্থাপনায় তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তবে নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে নির্দেশনাটি কার্যকর করতে হবে।"
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত স্প্রেডের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের অর্থায়ন ব্যয় বাড়ছে। এতে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যাংকারদের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে দ্রুত স্প্রেড কমানো সহজ নয়। আমানত সংগ্রহে ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রভিশন সংরক্ষণে বিপুল অর্থ আটকে যাচ্ছে। পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিফ হোসেন খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ (স্প্রেড), ৪ শতাংশ (নির্ধারিত সীমা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!