📌 ইরান তেহরানের সড়কগুলোতে ট্রাম্পের ব্যঙ্গচিত্রে ভর করে যুদ্ধবিরোধী বার্তা ছড়াচ্ছে। বিলবোর্ডে ট্রাম্পের মুখ সেলাই করা, গলায় চাপ দেওয়া, ড্রোনকে পা দিয়ে চাপা দেওয়া — এসব ছবি ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের নানা ঘটনা তুলে ধরছে
ইরান যুদ্ধের সময় বিলবোর্ডকে অস্ত্রের মতো ব্যবহার করে নিজেদের বিজয়ের বার্তা ছড়াচ্ছে। তেহরানের সড়কজুড়ে বিশালাকৃতির বিলবোর্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যঙ্গচিত্রে ভর করে যুদ্ধবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে ইরান। বিলবোর্ডে ট্রাম্পের মুখ সেলাই করা, গলায় চাপ দেওয়া, ড্রোনকে পা দিয়ে চাপা দেওয়া — এসব ছবি ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের নানা ঘটনা তুলে ধরছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তেহরানের সড়কগুলোতে ট্রাম্পের মুখ সেলাই করা, গলায় চাপ দেওয়া, ড্রোনকে পা দিয়ে চাপা দেওয়া — এসব ব্যঙ্গচিত্রে ইরান যুদ্ধবিরোধী বার্তা ছড়াচ্ছে
- 📌 ইরানের ‘খানেহ-য়ে তাররাহান’ প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে ট্রাম্পের ব্যঙ্গচিত্র, যেখানে তার ঠোঁট সেলাই করা এবং হরমুজ প্রণালির পানির মাধ্যমে মুখ বন্ধ করা হয়েছে
- 📌 বিলবোর্ডে লেখা: ‘চূড়ান্ত সীমায়’ — ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি এই ব্যঙ্গচিত্র
- 📌 তেহরানের আরেকটি বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে জাদুকরের বাক্সের ভেতরে আটকে দেখানো হয়েছে, যেখানে লেখা: ‘চোখের পলক ফেললেই আপনি শেষ!’
- 📌 ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, তখন থেকে বিলবোর্ডে যুদ্ধের নানা ঘটনা তুলে ধরা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
তেহরানের সড়কজুড়ে বিশাল বিশাল বিলবোর্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের নানা ঘটনা তুলে ধরার পাশাপাশি নিজেদের বিজয়ের বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছে ইরান। এসব বিলবোর্ডের মাধ্যমে ইরান যুদ্ধের নানা ঘটনা তুলে ধরার পাশাপাশি নিজেদের বিজয়ের বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছে। তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন হাজারো মানুষের চোখে পড়ছে এসব বিলবোর্ড। এর মধ্যে শহরের বিখ্যাত ভ্যালিয়াসর স্কয়ারও রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধে এই সব বিলবোর্ড অনেকটা 'ওয়ার ন্যারেটিভ' ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে।
ইরানের ‘খানেহ-য়ে তাররাহান’ বা ‘ডিজাইনার্স হাউস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে ট্রাম্পের বিশালাকৃতির একটি ব্যঙ্গচিত্র। এতে দেখা যায়, ট্রাম্পের ঠোঁট সেলাই করা এবং হরমুজ প্রণালির পানির মাধ্যমে তার মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি এই বিলবোর্ডে লেখা হয়েছে: ‘চূড়ান্ত সীমায়’। প্রতিষ্ঠানটির স্টুডিও ব্যবস্থাপক, ৩২ বছর বয়সী মোস্তাফা কাফায়ি বলেন, কোনো গুরুত্বপূর্ণ খবর এলেই তাদের দল দ্রুত কাজে নেমে পড়ে। প্রথমে বিভিন্ন ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়, এরপর গ্রাফিক ডিজাইনারদের কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং সবাই মিলে চূড়ান্ত নকশা তৈরি করেন।
তেহরানের আরেকটি বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে একজন জাদুকরের বাক্সের ভেতরে আটকে থাকা অবস্থায় দেখানো হয়েছে। তার হাতে কোকাকোলার বোতল ও হ্যামবার্গার। পাশে লেখা, ‘চোখের পলক ফেললেই আপনি শেষ!’ গত জুলাইয়ে, তুরস্কে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে এই ব্যঙ্গচিত্রে। নিরাপত্তাজনিত হুমকির কারণে ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে অন্য একটি বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাম্প্রতিক ‘হরমুজ ক্যাচ’ অভিযানের প্রতি ইঙ্গিত করে তেহরানের আরেকটি বিশাল বিলবোর্ডে দেখা যায়, একজন ইরানি সেনা একটি মার্কিন পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোনের ওপর পা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। বিলবোর্ডে লেখা, ‘ব্যবসা ভালোই চলছে।’ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করেছে ইরান।
"কোনো গুরুত্বপূর্ণ খবর এলেই তাদের দল দ্রুত কাজে নেমে পড়ে। প্রথমে বিভিন্ন ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়, এরপর গ্রাফিক ডিজাইনারদের কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং সবাই মিলে চূড়ান্ত নকশা তৈরি করেন।"
তেহরানের সাম্প্রতিক আরেকটি বিশাল বিলবোর্ডে দেখা যায়, একজন পৌরাণিক যোদ্ধা উত্তাল সমুদ্রের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়। পেছনে জ্বলছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। সেখানে লেখা, ‘শয়তানের বাহিনী আরব উপসাগরে ডুবে যাবে।’ নির্ভানা ব্যান্ডের বিখ্যাত ‘নেভারমাইন্ড’ অ্যালবামের প্রচ্ছদের আদলে তৈরি আরেকটি বিলবোর্ডে দেখা যায়, পানির নিচে ডলারের নোট আঁকড়ে ধরেছেন ট্রাম্প। পাশে বড় করে লেখা, ‘মহাবিজয়! হরমুজ প্রণালি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তেহরান, ইরান (ভ্যালিয়াসর স্কয়ার, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: মোস্তাফা কাফায়ি (৩২ বছর, ‘খানেহ-য়ে তাররাহান’ প্রতিষ্ঠানের স্টুডিও ব্যবস্থাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২ বছর (মোস্তাফা কাফায়ির বয়স), ২৮ ফেব্রুয়ারি (সংঘাত শুরু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!