📅 ৩০ আগস্ট ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

বাংলাদেশের কর সংস্কারে স্থবিরতা: রাজস্ব আদায়ে কেন রয়ে গেল পুরোনো সমস্যা?

বাংলাদেশের কর সংস্কারে স্থবিরতা: রাজস্ব আদায়ে কেন রয়ে গেল পুরোনো সমস্যা?

📷 ছবি: প্রথম আলো

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 বাংলাদেশে কর আদায়ে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ব্যর্থ হওয়ার পেছনে রয়েছে কর ফাঁকি, দুর্বল প্রশাসন ও বিশাল অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি। এনবিআরের সাম্প্রতিক উপস্থাপনায় দেখা গেছে, রাজস্ব আদায়ের তুলনায় করছাড়ের পরিমাণ প্রায় সমান। সংস্কার হলেও কেন রয়ে গেছে পুরোনো সমস্যা?

বাংলাদেশে প্রতি বছরই জাতীয় বাজেটে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বছর শেষে দেখা যায়, সেই লক্ষ্য পূরণ হয় না। বারবার একই ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তির পেছনে কর ফাঁকি, দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থা, দুর্নীতি, বিশাল অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি, প্রযুক্তির কম ব্যবহার এবং কর প্রদানে অনীহা—এসব কারণকে দায়ী করা হয়। যদিও এসব সমস্যার কথা সরকারি মহলেও স্বীকার করা হয়, তবুও সংস্কারের পরও কেন রয়ে যাচ্ছে এই স্থবিরতা?

এনবিআরের সাম্প্রতিক উপস্থাপনায় উঠে এসেছে আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য। দেশে করছাড়ের পরিমাণ জিডিপির ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ হলেও মোট কর আদায় হয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ, যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা সম্ভব, তার প্রায় সমপরিমাণ রাজস্ব ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এনবিআর স্বীকার করেছে, ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের পরিবর্তে তথ্য ও নিয়মভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলা প্রয়োজন। তারা কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত বিবেচনার পরিবর্তে তথ্য ও ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কর আদায় ব্যবস্থা চালু করতে চায়।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 বাংলাদেশে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বার্ষিক ব্যর্থতার কারণ হিসেবে কর ফাঁকি, দুর্বল প্রশাসন ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে চিহ্নিত করা হয়েছে
  • 📌 এনবিআরের সাম্প্রতিক উপস্থাপনায় দেখা গেছে, করছাড়ের পরিমাণ জিডিপির ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ, যেখানে কর আদায় হয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৮ শতাংশ
  • 📌 এনবিআর কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পরিবর্তে তথ্য ও নিয়মভিত্তিক কর প্রশাসন চালুর পরিকল্পনা করেছে
  • 📌 করনীতি ও কর আদায় একই প্রতিষ্ঠানে থাকায় কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা এবং তথ্যের অভাব রয়ে গেছে
  • 📌 গত তিন দশকে বিভিন্ন সংস্কার হলেও করছাড়, দর-কষাকষি ও কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ক্ষমতা কমাতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ

📰 বিস্তারিত

১৯৯১ সালে ভ্যাট চালুর পর থেকে বাংলাদেশে কর ব্যবস্থায় বেশ কয়েকটি সংস্কার করা হয়েছে। সেই সময় থেকে শুরু করে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রাজস্ব জিডিপির অনুপাত প্রায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। অটোমেশন, বড় করদাতা ইউনিট গঠন, অডিট সংস্কার এবং করের আওতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও করছাড়, দর-কষাকষি এবং কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সুযোগ রয়ে গেছে।

২০১২ সালের ভ্যাট আইনও দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়নের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। অবশেষে ২০১৯ সালে এটি কার্যকর হলেও সংস্কারের গতি থেমে থাকেনি। এনবিআরের প্রস্তাবিত ‘একীভূত এনবিআর কাঠামো’ আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমসকে একই প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছে। এর মাধ্যমে তথ্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা একীভূত করা হবে।

বাংলাদেশের মতো অন্যান্য দেশেও কর সংস্কারের বিভিন্ন পথ অনুসরণ করা হয়েছে। চীনে করনীতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে রেখে কর আদায়ের জন্য শক্তিশালী জাতীয় কর প্রশাসন গঠন করা হয়েছে। ভারতেও জিএসটি কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্যের স্বার্থ সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে নেপালে করছাড় কমানো, করভিত্তি বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কর আদায় সহজ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের কর সংস্কারে মূল সমস্যা হলো ব্যক্তিনির্ভর ক্ষমতা ও করছাড়ের সুযোগ। সংস্কার তখনই সম্ভব হবে যখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস ঘটবে।

"বাংলাদেশে কর আদায়ের সমস্যা শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতায় নয়, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্বেও রয়েছে। সংস্কার তখনই সম্ভব হবে যখন ব্যক্তিনির্ভর ক্ষমতা কমিয়ে তথ্য ও নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হবে।"

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: বাংলাদেশ
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কর্মকর্তা, এনবিআর
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ, ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, ৯ দশমিক ৬ শতাংশ

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖