📌 বেসরকারি খাতের কর্মীদের মধ্যে ৮১% অবসরকালীন আর্থিক পরিকল্পনা ছাড়াই রয়েছে। খরচের চাপ ও অপ্রত্যাশিত অর্থনৈতিক চাপের কারণে কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। মেটলাইফ বাংলাদেশের জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে
বেসরকারি খাতের কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা ও অবসরকালীন পরিকল্পনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মেটলাইফ বাংলাদেশের সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদন ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস) ২০২৬’-এ দেখা যায়, বর্তমানে বেসরকারি খাতের প্রায় ৮১ শতাংশ কর্মীর কোনো নির্দিষ্ট অবসরকালীন আর্থিক পরিকল্পনা নেই। মূলত তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে কর্মীরা ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিতে পারছেন না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বেসরকারি খাতের কর্মীদের মধ্যে ৮১ শতাংশের অবসরকালীন আর্থিক পরিকল্পনা নেই — গত বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি
- 📌 ৭২ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ তাদের কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে
- 📌 ৯১ শতাংশ কর্মী মনে করেন, এআই তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করছে
- 📌 ৫৫ শতাংশ কর্মী বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করছেন
- 📌 ৮৬ শতাংশ কর্মী চান, প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অবসরকালীন সঞ্চয়ে সরাসরি সহায়তা করুক
- 📌 ৮১ শতাংশ কর্মী মনে করেন, আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়োগকর্তার
- 📌 ২০২৬ সালে কর্মীদের সার্বিক কাজের সন্তুষ্টির হার ৮৩ শতাংশ — গত বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি
- 📌 ৭৩ শতাংশ কর্মী জীবনবিমা অত্যন্ত জরুরি মনে করলেও মাত্র ৩৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এর বাস্তব প্রয়োগ রয়েছে
📰 বিস্তারিত
মেটলাইফ বাংলাদেশের ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস) ২০২৬’ জরিপে দেখা যায়, বেসরকারি খাতের কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা ও অবসরকালীন পরিকল্পনা কমে গেছে। জরিপে ৭০৯ জন কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ ছিল, যার মধ্যে ৫৮৩ জন পূর্ণকালীন কর্মী এবং ১২৬ জন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সুবিধাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তৈরি পোশাক খাত, এনজিও, ব্যাংক, এফএমসিজি, টেলিকম ও খুচরা বিক্রেতাদের কর্মীরা ছিলেন।
জরিপে উঠে এসেছে, কর্মীদের কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে। প্রায় ৭২ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, তাদের কর্মক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এই চাপের। ফলে কর্মীদের ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের প্রবণতা কমে যাচ্ছে।
মেটলাইফ বাংলাদেশের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড প্রোডাক্ট নওফেল আনোয়ার বলেছেন, “জরিপে দেখা যায়, কর্মীদের বড় ধরনের খরচের চাপে রয়েছেন। এটি হতে পারে আয় কমে যাওয়া বা খরচের চাহিদা বাড়ার কারণে। এ কারণে কর্মীদের অবসরকালীন পরিকল্পনা কমেছে।”
জরিপে আরও দেখা গেছে, কর্মীদের মধ্যে এআই ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫৫ শতাংশ কর্মী কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করছেন। এআই ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৯১ শতাংশ জানিয়েছেন, এটি তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়াও, কর্মক্ষেত্রে মানসিক শান্তি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহানুভূতিশীল সংস্কৃতি বা ‘কেয়ার কালচার’-এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
"জরিপে উঠে এসেছে যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়োগকর্তার। তারা চান, প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অবসরকালীন সঞ্চয়ে সরাসরি সহায়তা করুক।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নওফেল আনোয়ার (মেটলাইফ বাংলাদেশের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড প্রোডাক্ট), সাইফুর রহমান (মেটলাইফ বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশনস)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮১ শতাংশ (অবসরকালীন পরিকল্পনা ছাড়াই), ৭০৯ জন (জরিপে অংশগ্রহণকারী), ৫৫ শতাংশ (এআই ব্যবহারকারী কর্মী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!