📌 বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ১০৮ কোটি টাকা খরচ করে ইসবগুল আমদানি করে। দেশে বাণিজ্যিকভাবে ইসবগুল উৎপাদন হয় না এবং পরীক্ষামূলক চাষেও বীজ থেকে ভুসি প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হয়নি। ভারতই বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ।
বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ১০৮ কোটি টাকা খরচ করে ইসবগুলের ভুসি আমদানি করে, যা সম্পূর্ণ ভারত থেকে আসে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে (২০২৫-২৬) দেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০ টন ইসবগুলের ভুসি আমদানি হয়েছে। তবে দেশে বাণিজ্যিকভাবে কোনো ইসবগুল উৎপাদন হয় না। বিজ্ঞানীরা আট বছর আগে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করলেও বীজ থেকে ভুসি প্রক্রিয়াজাত করার যন্ত্রের অভাবের কারণে বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্ভব হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০৮ কোটি টাকা খরচ করে বাংলাদেশ প্রতি বছর ইসবগুল আমদানি করে
- 📌 ২ হাজার ৭০০ টন ইসবগুলের ভুসি গত অর্থবছরে আমদানি হয়েছে, সম্পূর্ণ ভারত থেকে
- 📌 ৮০ শতাংশ বৈশ্বিক ইসবগুল ভুসির জোগান দেয় ভারত
- 📌 ৫০ হাজার টন ইসবগুল রপ্তানি করে ভারত প্রতিবছর
- 📌 ১ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি কেজি ইসবগুলের ভুসির বাজার দাম
- 📌 ৮৮ শতাংশ বেড়েছে গত আট বছরে ইসবগুলের দাম
📰 বিস্তারিত
ইসবগুল বা প্ল্যান্টাগো ওভাটা একটি প্রাচীন ভেষজ উদ্ভিদ, যেটি বহু বছর ধরে স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম প্ল্যান্টাগো ওভাটা এবং বাণিজ্যিকভাবে এটি ব্লন্ড সিলিয়াম নামে পরিচিত। ইসবগুলের নামকরণ হয়েছে ফার্সি শব্দ ‘আসব্’ (ঘোড়া) এবং ‘গুল্’ (কান) থেকে, কারণ এর বীজের আকৃতি ঘোড়ার কানের মতো। ইসবগুলের উৎপত্তি ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী অঞ্চল ও পশ্চিম এশিয়ায়, পরে এটি দক্ষিণ এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতের কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ভারত বিশ্বের শীর্ষ ইসবগুল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ। প্রতিবছর ভারত প্রায় ৫০ হাজার টন ইসবগুল ভুসি ও বীজ রপ্তানি করে। ভারতের গুজরাট, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ রাজ্য ইসবগুলের প্রধান উৎপাদন অঞ্চল। বৈশ্বিক বাজারে ভারতই ইসবগুলের প্রায় ৮০ শতাংশ জোগান দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ইসবগুলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা, যেখানে ভারতের রপ্তানি করা ইসবগুলের ৫০ শতাংশ কিনে নেয়।
বাংলাদেশে ইসবগুলের ভুসির দাম গত আট বছরে প্রায় ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৭ সালে প্রতি কেজি দাম ছিল ৮০০ টাকা, যা ২০২৪ সালে রোজার সময়ে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার টাকা। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ইসবগুলের ভুসির গড় দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, অবৈধ পথে (শুল্ক ফাঁকি দিয়ে) দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ইসবগুলের ভুসি আনা হয়।
"ইসবগুলের ভুসি খুব শক্তিশালী প্রিবায়োটিক। এর উচ্চমাত্রার আঁশ অন্ত্রে দ্রুত উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কলোনি তৈরি করে হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং অন্ত্রের যেকোনো সংক্রমণের হার কমায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (মূলত ঢাকা), ভারত (গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ), যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানীরা, মো. সাগর (মসলা বিক্রেতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৮ কোটি টাকা (আমদানি খরচ), ২ হাজার ৭০০ টন (আমদানি পরিমাণ), ৮০ শতাংশ (ভারতের বৈশ্বিক জোগান), ৫০ হাজার টন (ভারতের রপ্তানি), ১ হাজার ৫০০ টাকা (বাজার দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!