📌 মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব ও এলএনজি আমদানিনির্ভরতার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। ভোলার গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণে ব্যর্থতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন নির্ভর করে গ্যাসের ওপর। তবে ভোলার গ্যাসক্ষেত্র থেকে মূল ভূখণ্ডে পাইপলাইন নির্মাণে ব্যর্থতার কারণে এলএনজি আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই এই সংকটের পূর্বাভাস থাকলেও সরকারি উদ্যোগে তা মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলমান রয়েছে
- 📌 বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশ নির্ভর করে গ্যাসের ওপর
- 📌 ভোলার গ্যাসক্ষেত্র থেকে মূল ভূখণ্ডে পাইপলাইন নির্মাণে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ের সুযোগ থাকলেও তা করা হয়নি
- 📌 এলএনজি আমদানিতে প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হলেও গ্যাস সংকট অব্যাহত রয়েছে
- 📌 বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংকট দীর্ঘ হলে বাংলাদেশে প্রায় ছয় লাখ চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে
- 📌 ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের পূর্বাভাস থাকলেও সরকারি উদ্যোগে তা মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি
📰 বিস্তারিত
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলমান রয়েছে। এই যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়েছে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশ নির্ভর করে গ্যাসের ওপর। তবে ভোলার গ্যাসক্ষেত্র থেকে মূল ভূখণ্ডে পাইপলাইন নির্মাণে ব্যর্থতার কারণে এলএনজি আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে গ্যাস খাতকে ধারাবাহিকভাবে আমদানিনির্ভর করে তোলার কারণে বাংলাদেশ এখন কড়ায়-গন্ডায় গুনতে হচ্ছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকেই এই সংকটের পূর্বাভাস ছিল। তবে সরকারি উদ্যোগে তা মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ভোলার গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ের সুযোগ থাকলেও তা করা হয়নি। বর্তমানে সেই পাইপলাইন নির্মাণ করতে গেলে প্রয়োজন হবে ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা।
এলএনজি আমদানিতে প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হলেও গ্যাস সংকট অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি কিনতে বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার দ্রুত ফুরিয়ে আসতে থাকে। দফায় দফায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরও জ্বালানি–সংকটের সমাধান মেলেনি। সরকারি হিসাবেই মূল্যস্ফীতি বাড়তে বাড়তে ১৩ থেকে ১৪ শতাংশে গিয়ে পৌঁছে। প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে শুরু হয় ভাটার টান।
"যে পাইপলাইন তখন ৬০০ কোটি টাকায় করা সম্ভব ছিল, সেটাই এখন করতে প্রয়োজন হবে ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ শতাংশ, ৬০০ কোটি টাকা, ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা, ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!