📌 বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে পুরোনো সোনা বিক্রি ও বদলের ক্ষেত্রে ১২% থেকে ১৮% পর্যন্ত কর্তন হার নির্ধারণ করেছে। নতুন নিয়মে গ্রাহকদের নিশ্চিত করা হয়েছে যে কোনো লুকানো খরচ বা অতিরিক্ত ভ্যাট কাটা যাবে না
বাংলাদেশের জুয়েলারি শিল্পে স্বচ্ছতা আনতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন ‘অলংকার ক্রয়-বিক্রয় পলিসি-২০২৬’-এ পুরোনো সোনা বিক্রি ও বদলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শতাংশ কর্তন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নিয়মের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে বাংলাদেশের জুয়েলারি বাজারকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং গ্রাহকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে বাজুসের নতুন ‘অলংকার ক্রয়-বিক্রয় পলিসি-২০২৬’।
- 📌 ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেটের পুরোনো সোনা বদল বা বিক্রির ক্ষেত্রে কর্তন হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
- 📌 গহনা বদলে ১২% কর্তন, নগদ বিক্রিতে ১৮% কর্তন হবে।
- 📌 ভ্যাটের বাইরে আর কোনো অতিরিক্ত চার্জ কাটা যাবে না।
- 📌 মজুরি খরচ কর্তনের বাইরে, আলাদাভাবে ধার্য হবে।
📰 বিস্তারিত
বাজুসের পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, এতদিন পুরোনো সোনা বিক্রি বা বদলের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড ছিল না। এক দোকানে ১০% কর্তন হতো, অন্য দোকানে ২০% বা তারও বেশি। ফলে গ্রাহকদের পক্ষে বোঝা কঠিন হয়ে পড়তো যে তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন কি না। বিশেষ করে জরুরি অবস্থায় গহনা বিক্রি করতে বাধ্য হওয়া পরিবারের জন্য এই অনিশ্চয়তা ছিল অত্যন্ত বিরক্তিকর।
বাজুসের ভাষ্যমতে, নতুন নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের জুয়েলারি শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা। নতুন পলিসিতে ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেটের সোনার গহনা বদল বা বিক্রির ক্ষেত্রে কর্তন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই নিয়ম শুধুমাত্র সেই গহনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা আগে ওই একই প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয় করা হয়েছিল।
বাজুসের পলিসি অনুযায়ী, গহনা বদলে ১২% কর্তন এবং নগদ বিক্রিতে ১৮% কর্তন হবে। বদলের ক্ষেত্রে কর্তন হার কম থাকার কারণ হলো, প্রতিষ্ঠানকে সোনা পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ থাকে এবং ব্যবসা চলমান থাকে। কিন্তু নগদ বিক্রিতে প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি মূলধন খরচ করতে হয়, যার প্রতিফলন ঘটেছে বাড়তি কর্তনের হারে।
এছাড়া, নতুন নিয়মে ভ্যাটের বাইরে আর কোনো অতিরিক্ত চার্জ কাটা যাবে না। এতদিন কিছু প্রতিষ্ঠান কর্তনের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভ্যাট বা চার্জ যুক্ত করে প্রকৃত প্রাপ্য অর্থ কমিয়ে দিতো। নতুন নিয়মে এই সুযোগ আর থাকছে না, ফলে গ্রাহকরা আগে থেকেই নিশ্চিত হতে পারবেন যে চূড়ান্ত হিসাবে কোনো লুকানো খরচ যুক্ত হবে না।
"এই পলিসির লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশের জুয়েলারি শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সারাদেশে কার্যকর)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ সেপ্টেম্বর (কার্যকর তারিখ), ১২% (বদলের কর্তন), ১৮% (বিক্রির কর্তন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!