📌 মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় রোপা আমনের মাজরা পোকা ও গোড়া পচা রোগের আক্রমণে কৃষকদের ফলন হুমকিতে পড়েছে। কীটনাশক ব্যবহার করেও পোকা দমন সম্ভব হচ্ছে না, যা চাষিদের অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় রোপা আমনের মাঠে মাজরা পোকা ও গোড়া পচা রোগের আক্রমণে কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে। কীটনাশক ব্যবহার করেও পোকা দমন সম্ভব হচ্ছে না, যা ফলন হুমকিতে রূপায়িত করেছে। সার, শ্রমিক খরচ ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যয়ে চাষিরা অর্থনৈতিক চাপে আছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমনের মাজরা পোকা ও গোড়া পচা রোগের আক্রমণ
- 📌 কীটনাশক ব্যবহার করেও পোকা দমন সম্ভব হচ্ছে না, ফলন হুমকিতে পড়েছে
- 📌 চাষিরা বিঘাপ্রতি ১৬-১৮ মণ ধান আশা করলেও পোকা আক্রমণে ফলন কমে যাবে বলে আশঙ্কা
- 📌 কৃষি অফিস থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট পরামর্শ না পাওয়ায় চাষিরা কীটনাশক ব্যবহারে অসুবিধা
- 📌 গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন বলেছেন, সন্ধ্যায় আলোকফাঁদ বসিয়ে পোকা সংখ্যা নির্ণয় করা হচ্ছে
- 📌 ৫টি মরা শীষ পাওয়া গেলে ইনসিপিয়ো ২০ এসসি, ভিরতাকো ৪০ ডব্লিউজি, বেল্ট এক্সপার্ট ৪৮ এসসি ব্যবহার করতে হবে
📰 বিস্তারিত
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় রোপা আমনের মাঠে মাজরা পোকা ও গোড়া পচা রোগের আক্রমণে কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে রোপা আমনে এই রোগের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। কীটনাশক ব্যবহার করেও পুরোপুরি দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চাষিরা অর্থনৈতিক চাপে আছেন।
করমদীর চাষি মিজানুর রহমান বলেন, ‘মাত্রই ধানের শীষ আসা শুরু করেছে। এরই মধ্যে মাজরা পোকা ও গোড়া পচা রোগ দেখা দিয়েছে। কীটনাশকে পোকার আক্রমণ কমলেও সম্পূর্ণ সমাধান হয়নি।’
তেরাইল এলাকার আমন চাষি রুবেল হোসেন বলেন, ‘ধানের এই রোগ নিয়ে খুব ভোগান্তিতে পড়েছি। সবকিছুর দাম বাড়ায় বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। এর মধ্যে গোড়া পচা রোগ ও মাজরা পোকার আক্রমণ। জমির ধান দেখলে খুব কষ্ট হচ্ছে।’
আব্দুল মতিন বলেন, ‘ফলন ভালো হলে বিঘাপ্রতি ১৬-১৮ মণ ধান পাওয়া যায়। যেভাবে পোকা আক্রমণ করেছে, তাতে ফলন কমে যাবে। চাষিরা কীটনাশক প্রয়োগ করতে করতে হাঁপিয়ে যাচ্ছে।’
আমন চাষি শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষি অফিস থেকে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো পরামর্শ পাইনি। কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ পেলে সে অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহার করতে পারতাম।’
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সন্ধ্যায় খেত থেকে ২০০-৩০০ মিটার দূরে আলোকফাঁদ বসিয়ে মাজরা পোকার পূর্ণবয়স্ক মথের উপস্থিতি ও সংখ্যা নির্ণয় করা হয়। এতে পোকা কিছুটা দমনও হয়। ধান খেতে ৫টি মরা শীষ পাওয়া গেলে ইনসিপিয়ো ২০ এসসি, ভিরতাকো ৪০ ডব্লিউজি, বেল্ট এক্সপার্ট ৪৮ এসসি এবং সমজাতীয় অন্যান্য কীটনাশক সঠিক মাত্রায় ও সঠিক নিয়মে ব্যবহার করতে হবে।’
"মাত্রই ধানের শীষ আসা শুরু করেছে। এরই মধ্যে মাজরা পোকা ও গোড়া পচা রোগ দেখা দিয়েছে। কীটনাশকে পোকার আক্রমণ কমলেও সম্পূর্ণ সমাধান হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাংনী উপজেলা, মেহেরপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিজানুর রহমান, রুবেল হোসেন, আব্দুল মতিন, শরিফুল ইসলাম, মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ হাজার হেক্টর (আবাদ), ১৬-১৮ মণ (বিঘা ফলন), ২০০-৩০০ মিটার (আলোকফাঁদ দূরত্ব), ৫টি (মরা শীষ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!