📌 বাইন্যান্সের সাইবার হামলায় ৩৬০ কোটি ডলার চুরি হওয়ার পর গ্রাহকরা উত্তোলন করে নিলেন অপহৃত অর্থ। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই উত্তর কোরীয় লাজারাস গ্রুপকে দায়ী করেছে এই হামলায়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ৯৫ শতাংশ চুরি হওয়া অর্থের ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে, তবে বাকি অর্থ উদ্ধারের জন্য আরও সময় লাগবে
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সের সাইবার হামলায় ৩৬০ কোটি ডলার চুরি হওয়ার পর গ্রাহকরা উত্তোলন করে নিলেন অপহৃত অর্থ। হামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে সেবা বন্ধ রাখলেও, সেবা পুনরায় চালু হওয়ার পরপরই গ্রাহকরা ৩৬০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ উত্তোলন করে নিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাইন্যান্স হ্যাকিং হামলায় ৬৩০ কোটি ডলার ক্ষতি, এর মধ্যে ৩৬০ কোটি ডলার গ্রাহকরা উত্তোলন করে নিলেন
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই উত্তর কোরীয় লাজারাস গ্রুপকে দায়ী করেছে এই হামলায়
- 📌 বাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনাধীন সম্পদের ২ শতাংশের বেশি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে
- 📌 চুরি হওয়া অর্থের ৯৫ শতাংশের ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে, বাকি অর্থ উদ্ধারের জন্য আরও সময় লাগবে
- 📌 বাইন্যান্সের প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মধ্য দিয়ে এই হামলার সূত্রপাত
📰 বিস্তারিত
বাইন্যান্সের সাইবার হামলায় ৬৩০ কোটি ডলার ক্ষতি হওয়ার পর গ্রাহকরা উত্তোলন করে নিলেন ৩৬০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ। হামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি সেবা বন্ধ রাখলেও, ১ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত গ্রাহকরা ৪৬৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের উত্তোলন আবেদন করে। একই সময়ে ১০১ কোটি ডলার জমা পড়ায় নিটভাবে ৩৬৪ কোটি ডলার উত্তোলন করা হয়েছে। বাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনাধীন সম্পদের মোট পরিমাণ ১৭ হাজার ১০০ কোটি ডলার, তাই এই উত্তোলন পরিমাণটি প্রতিষ্ঠানটির সম্পদের ২ শতাংশের সামান্য বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উত্তর কোরীয় লাজারাস গ্রুপকে এই হামলার জন্য দায়ী করেছে। এই গ্রুপটি ২০২৫ সালে ক্রিপ্টো বিনিময় প্রতিষ্ঠান বাইবিট থেকে ১৫০ কোটি ডলার চুরি করেছিল। এফবিআই শনিবার গ্রুপটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেটের ঠিকানার তালিকা প্রকাশ করেছে এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে লেনদেন বন্ধ রাখতে।
বাইন্যান্সের প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সি যেমন বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামের উত্তোলন আবার চালু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবাগুলোও চালু করা হবে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, একজন প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মধ্য দিয়ে এই হামলার সূত্রপাত। ওই ল্যাপটপে অননুমোদিত প্রবেশের সুযোগ পেয়ে হ্যাকাররা অবৈধভাবে লেনদেন করার পথ খুঁজে পেয়েছিল।
চুরি হওয়া অর্থের ৯৫ শতাংশের ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে, তবে বাকি অর্থ উদ্ধারের জন্য আরও সময় লাগতে পারে। বাইন্যান্স বারবার বলেছে, এই হামলার কারণে হওয়া সব আর্থিক ক্ষতি তারা নিজেরাই বহন করবে। ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসের জ্যেষ্ঠ তদন্তকারী অ্যালেক্স জেব্রিক জানিয়েছেন, চুরি হওয়া অর্থ এখনো বিভিন্ন মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ও বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে কাজ করছেন অর্থ উদ্ধারে।
"আমরা এখনো দেখছি, বেশ সক্রিয়ভাবে অর্থ পাচার করা হচ্ছে। হামলাকারীরা হাজার হাজার ঠিকানায় এসব অর্থ ভাগ করে পাঠাচ্ছে। হাজার হাজার জমার মাধ্যমে অর্থের উৎস আড়াল করার চেষ্টা চলছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (এফবিআই), চীন (বাইন্যান্সের সদর দপ্তর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যালেক্স জেব্রিক (চেইনঅ্যানালাইসিস), এফবিআই
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬০ কোটি ডলার (উত্তোলন), ৬৩০ কোটি ডলার (ক্ষতি), ৯৫ শতাংশ (ঘাটতি পূরণ), ১৭ হাজার ১০০ কোটি ডলার (বাইন্যান্সের সম্পদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!