📌 বাংলাদেশে ৪৫.৫% নারী প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হন। সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই হার ৬৩.৭%। মাত্র ৪.৬% পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। গবেষণা প্রকাশিত হয় মহিলা পরিষদ ও ডিজিটালি রাইটের যৌথ উদ্যোগে
বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার (টিএফজিবিভি) শিকার নারীদের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি। গবেষণা থেকে জানা যায়, সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীদের মধ্যে এই সহিংসতার হার ৬৩.৭%। তবে মাত্র ৪.৬% ভুক্তভোগী পুলিশের দ্বারস্থ হন। গবেষণা প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে ৪৫.৫% নারী প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হন, সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই হার ৬৩.৭%
- 📌 মাত্র ৪.৬% ভুক্তভোগী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, অধিকাংশই অপরাধীকে ব্লক করে দেন
- 📌 ৫৭.৪% নারী গত ১২ মাসে পুনরায় সহিংসতার শিকার হন, ৩৪.২% একই সঙ্গে দুই ধরনের সহিংসতার মুখোমুখি হন
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিত নারীদের মধ্যে সহিংসতার হার সর্বোচ্চ ৭৬.৭%, অর্থনৈতিক শোষণের শিকার হয়েছেন ৩৭.১%
- 📌 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার বাড়ছে, সাবেক অন্তরঙ্গ সঙ্গীরা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ডিজিটালই রাইট পরিচালিত ‘এবিউজ বিয়ন্ড দ্য স্ক্রিন’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ নারী অপরাধীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্লক করে দেন। অনেকেই হয়রানির পর অনলাইন ব্যবহার কমিয়ে দেন। গবেষণা তথ্য তুলে ধরেন মহিলা পরিষদের সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান ও ডিজিটালি রাইটের হেড অব রিসার্চ আব্দুল্লাহ তিতি।
গবেষণাটি মিশ্র পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছে। চলতি বছরের ৭ থেকে ১৩ জানুয়ারি ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট জেলার সিটি করপোরেশন এবং উপজেলা পর্যায়ে ১৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ৫২১ জন নারী, তরুণী ও কিশোরীর ওপর জরিপ করা হয়। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে চারজন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যদাতার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। প্রযুক্তি-সহায়তায় সংঘটিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন আটজন নারীর বিস্তারিত সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, অনলাইনে সহিংসতার শিকার নারীদের ৫৭.৪ শতাংশ গত ১২ মাসেও এ ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ৬৫.৮ শতাংশ একটি ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন, আর ৩৪.২ শতাংশ একই সঙ্গে দুই বা তার বেশি ধরনের সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩৪.৫ শতাংশ মনে করেন, অনলাইনে উপস্থিত থাকলে হয়রানির শিকার হওয়া স্বাভাবিক। তবে গবেষকদের মতে, ক্ষতিকর আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার এ প্রবণতা উদ্বেগজনক।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তি-সহায়তায় সংঘটিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এ গোষ্ঠীর ৪৯ শতাংশ এ ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষিত নারীদের মধ্যে এ হার ৭৬.৭ শতাংশ। অন্যদিকে অর্থনৈতিক শোষণের শিকার হওয়ার হার গৃহিণীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি—৫০.৪ শতাংশ।
"অধিকাংশ নারী অপরাধীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্লক করে দেন। অনেকেই হয়রানির পর অনলাইন ব্যবহার কমিয়ে দেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আফরুজা আরমান (মহিলা পরিষদ), আব্দুল্লাহ তিতি (ডিজিটালি রাইট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫.৫% (সহিংসতার হার), ৬৩.৭% (সক্রিয় ব্যবহারকারীদের মধ্যে), ৪.৬% (পুলিশে অভিযোগ), ৭৬.৭% (বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিত নারীদের মধ্যে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!