📌 যশোরের বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশকে 'বরিশালের ইলিশ' বলে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্রেতারা দাবি করছেন, ভারতীয় ইলিশের স্বাদ ও গুণগত মান কম এবং মাছের পেট মোটা। জুলাই-আগস্টে ৩ লাখ ৫২ হাজার কেজি ইলিশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে।
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশ স্থানীয় বাজারে ‘বরিশালের ইলিশ’ নামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার যশোরের বড়বাজারে দেখা গেছে, ইলিশের দাম বাজারে বেশ চড়া। বাজারে ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যশোরের বাজারে ভারতীয় ইলিশকে 'বরিশালের ইলিশ' বলে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা
- 📌 ক্রেতাদের অভিযোগ: ভারতীয় ইলিশের স্বাদ ও গন্ধ কম, পেট মোটা এবং ডিমে ভরা
- 📌 জুলাই-আগস্টে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি ইলিশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে
- 📌 আমদানি মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা
- 📌 ১৯টি প্রতিষ্ঠান জড়িত এই আমদানিতে
📰 বিস্তারিত
যশোরের বড়বাজারে ইলিশ ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেছেন, কিছুদিন আগে ভারত থেকে আসা ইলিশের চেহারা ও বৈশিষ্ট্যে দেশি ইলিশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য তফাত রয়েছে। মাছগুলোর পেট বেশ মোটা এবং ডিমে ভরা। দেশি ইলিশের স্বাভাবিক স্বাদ ও সুগন্ধ এতে পাওয়া যায় না। তবে স্থানীয় বাজারে এগুলো ‘বরিশালের ইলিশ’ নামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শেখ আবদুল্লাহ হোসাইন নামের এক ক্রেতা বলেছেন, ‘যশোরের বাজারে সব ইলিশই বিক্রি হচ্ছে ‘বরিশালের ইলিশ’ নামে। নদীর ইলিশের দাম বেশি এবং সুস্বাদু। এ কারণে ব্যবসায়ীরা বরিশালের নদীর ইলিশ বলে বিক্রি করেন।’
ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর শেখ অভিযোগটি মেনে নিতে রাজি নয়। তিনি বলেছেন, ‘আমি তা মেনে নিতে পারছি না।’
যশোর জেলা মৎস্য বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, জুলাই ও আগস্ট মাসে মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি ইলিশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে। এর মোট আমদানি মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা। ১৯টি প্রতিষ্ঠান এই আমদানির সঙ্গে যুক্ত।
মনিরুল মামুন, যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ঠিক কী কারণে ভারতীয় ইলিশ বাংলাদেশে আমদানি করা হচ্ছে, তা এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।’ তবে মৎস্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ভারত থেকে যে ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে, তা প্রকৃতপক্ষে ভারতের সমুদ্রের কি না, তা পরিষ্কার নয়। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা অন্য কোনো দেশ থেকে আমদানি করে সেগুলো বাংলাদেশে রপ্তানি করছেন কি না, সেটাও পরিষ্কার নয়।’
"ঠিক কী কারণে ভারতীয় ইলিশ বাংলাদেশে আমদানি করা হচ্ছে, তা এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোর জেলা, বড়বাজার, বেনাপোল স্থলবন্দর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলমগীর হোসেন, শেখ আবদুল্লাহ হোসাইন, মনিরুল মামুন, জাহাঙ্গীর শেখ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি (আমদানি), ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা (আমদানি মূল্য), ১৯টি (প্রতিষ্ঠান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!