📌 রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার একরামুল এক পায়ে গাছে উঠে সুপারি ও ডালপালা কাটে জীবিকা নির্বাহ করছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার বশবর্তী হয়ে পরিবারের ছয় সদস্যের খরচ চালানোর দায়িত্বে তিনি প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। স্থানীয়রা চান সরকারি সহায়তায় তাঁকে নিরাপদ কর্মসংস্থান দিতে।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার দক্ষিণ মদামোদন এলাকার একরামুলের জীবন এক পায়ে গাছে উঠা সংগ্রামের গল্প। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার বশবর্তী হয়ে তিনি পরিবারের ছয় সদস্যের খরচ চালানোর দায়িত্বে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। স্থানীয়রা তাকে ‘বৃক্ষমানব’ বা ‘ট্রি ম্যান’ নামে চেনেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চার বছর বয়সে পা পঙ্গু হয়ে যাওয়ার পরও এক পায়ে গাছে উঠে জীবিকা নির্বাহ করছেন একরামুল
- 📌 প্রতিদিন গাছ পরিষ্কার করে ১০ থেকে ২০ টাকা আয় করে পরিবারের খরচ চালান
- 📌 ঝড়-বৃষ্টি বা শারীরিক কষ্টের কারণে কাজে বের হতে না পারলে পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা কঠিন হয়ে পড়ে
- 📌 স্থানীয়রা চান সরকারি সহায়তায় তাঁকে স্থায়ী কর্মসংস্থান দিতে
- 📌 একরামুলের একমাত্র কর্মসম্বল একটি দা — সেটি হাতে নিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে গাছে উঠেন
📰 বিস্তারিত
একরামুলের পরিবার ছয় সদস্যের — বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তানসহ। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। চার বছর বয়সে তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর একটি পা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাটি প্রায় অকেজো হয়ে যায়। শৈশবে সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের সুপারি গাছসহ বিভিন্ন গাছে উঠতে দেখে একরামুলেরও প্রবল ইচ্ছা জাগত গাছে ওঠার। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতায় শুরুতে তা সম্ভব হতো না। দীর্ঘ অনুশীলনের পর তিনি এক পায়ে ভর করে গাছে ওঠার কৌশল আয়ত্ত করেন। এখন সেই দক্ষতাই তাঁর জীবিকার প্রধান অবলম্বন।
প্রতিদিন সকাল হলে একরামুল একটি কাঠের স্ট্রেচার ও দা নিয়ে কাজের খোঁজে বের হন। এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে মানুষের বাড়ি কিংবা বাগানে পৌঁছান। এরপর ঝুঁকি নিয়ে গাছের মগডালে উঠে শুকনো ডাল কাটা, সুপারি গাছ পরিষ্কারসহ বিভিন্ন কাজ করেন। এক গাছ পরিষ্কার করে তিনি সাধারণত ১০ থেকে ২০ টাকা পান। সারাদিন কাজ করে কখনো চার থেকে পাঁচশ টাকা আয় হয়। সেই টাকাতেই চলে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ।
অভাবের কারণে তাঁর বড় দুই ভাইও বাবা-মাকে নিয়মিত সহযোগিতা করতে পারেন না। ফলে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনার দায়িত্বও মূলত একরামুলকেই নিতে হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা শারীরিক কষ্ট কোনোটিই তাঁকে কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে না। কারণ একদিন কাজে বের হতে না পারলে পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে একরামুলের এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ নিয়ে প্রতিনিয়ত উৎকণ্ঠায় থাকেন পরিবারের সদস্যরা। বাবা-মায়ের ভয়, যেকোনো সময় গাছ থেকে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
"আমি কারও করুণা চাই না; চাই কাজ করে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার একটি স্থায়ী সুযোগ। একটি ছোট দোকান কিংবা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পেলে বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে জীবন চালাতে পারবেন বলে আশা আমার।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ মদামোদন, কাউনিয়া উপজেলা, রংপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: একরামুল (বৃক্ষমানব/ট্রি ম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০-২০ টাকা (গাছ পরিষ্কার করে আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!