📌 সুন্দরবনের 'নানা ভাই' বাহিনীর ১২ জন সদস্য কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে। তারা জমা দেন ১৩টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ। বাহিনীটি ২০২৪-২৫ সালে গঠিত হয়েছিল এবং পশ্চিম সুন্দরবনে ডাকাতি করত।
সুন্দরবনের ‘নানা ভাই’ বাহিনীর ১২ জন সদস্য কোস্টগার্ডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। তারা জমা দেন ১৩টি অস্ত্র, ২১২টি তাজা কার্তুজসহ বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ। বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ সদস্যরা বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ডের সদর দপ্তরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুন্দরবনের ‘নানা ভাই’ বাহিনীর ১২ জন সদস্য কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে
- 📌 বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ সদস্যরা জমা দেন ১৩টি অস্ত্র ও ২১২টি তাজা কার্তুজ
- 📌 বাহিনীটি ২০২৪ সালের শেষের দিকে অথবা ২০২৫ সালের শুরুতে গঠিত হয়েছিল
- 📌 সদস্যরা মূলত সুন্দরবনের পশ্চিম অংশে কয়রা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে ডাকাতি করতেন
- 📌 আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের বাসিন্দা
📰 বিস্তারিত
সুন্দরবনের ‘নানা ভাই’ বাহিনীর সদস্যরা আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ডের পশ্চিমাঞ্চলের সদর দপ্তরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন সদস্য এই আত্মসমর্পণ করেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় তারা আত্মসমর্পণ করেন। পরে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে তারা বিভিন্ন ধরনের ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২১২টি তাজা কার্তুজসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ম্যাগাজিন ও ছয়টি ওয়াকিটকি জমা দেন।
আত্মসমর্পণ করা ডাকাতদলের মধ্যে রয়েছে বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৫৩), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭), আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫), শাহজাহান মালী (৩৫) ও আজিজুর রহমান (৪৫)। তাদের মধ্যে সাতজন খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ার, চারজন সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও একজন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাসিন্দা।
বাহিনীটি ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সুন্দরবনকে আনুষ্ঠানিকভাবে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুন্দরবনে আবার দস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। ‘নানা ভাই’ বাহিনীটি মূলত সুন্দরবনের পশ্চিম অংশে কয়রা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে ডাকাতি করত। বাহিনীটি গঠিত হয়েছিল ‘মজনু বাহিনী’ থেকে। সেই বাহিনীর প্রধান মজনু ভারতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়লে জাহাঙ্গীর মোড়ল সাত থেকে আটজনকে নিয়ে দল গঠন করেন। জেলেদের মতে, পরবর্তী সময়ে জাহাঙ্গীর মোড়ল ও শফিকুল ইসলাম একজোট হয়ে সুন্দরবনে দস্যুতা শুরু করেন। তখন থেকেই শফিকুলের ডাকনাম ‘নানা ভাই’ থেকে বাহিনীর নাম ‘নানা ভাই বাহিনী’ হয় এবং জাহাঙ্গীর বাহিনীটির প্রধান হন।
"সুন্দরবনের দস্যুদের আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাঁরা আত্মসমর্পণ করবেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাঁদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আত্মসমর্পণ করা ১২ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। কোস্টগার্ড জানায়, ধারাবাহিক অভিযানের কারণে সুন্দরবনে সক্রিয় ডাকাত দল কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। আগে ‘ছোট সুমন’, ‘বড় জাহাঙ্গীর’ ও ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর ৩৭ জন ডাকাত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুন্দরবন (পশ্চিম অংশ: কয়রা ও সাতক্ষীরা), বাগেরহাটের মোংলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাহাঙ্গীর মোড়ল (বাহিনীর প্রধান), শফিকুল ইসলাম (ডাকনাম ‘নানা ভাই’)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ জন সদস্য, ১৩টি অস্ত্র, ২১২টি তাজা কার্তুজ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!