📌 নোয়াখালীর সুবর্ণচরে তিন মাস আগের হেনস্তার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত দুই তরুণকে স্থানীয়দের হাতে নদীতে ডুব দিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। স্থানীয় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা নিজেই স্বীকার করেছেন, দলের বিরুদ্ধে সমালোচনা কমাতে তারা এমন শাস্তি দিয়েছেন
নোয়াখালীর সুবর্ণচরের মেঘনার শাখা নদীর পাড়ে তিন মাস আগের ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত দুই তরুণকে স্থানীয়দের হাতে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের কান ধরে ওঠবস করানো এবং নদীতে ৫০ বার ডুব দেওয়ার পর তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকালে ভূঁইয়ারহাটসংলগ্ন এলাকায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তিন মাস আগে সুবর্ণচরের মরা মেঘনা নদীর পাড়ে দুই তরুণ-তরুণীকে হেনস্তার ঘটনা ঘটে
- 📌 গত বুধবার ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়
- 📌 অভিযুক্ত দুই তরুণকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে পরে নদীতে ৫০ বার ডুব দেওয়ার শাস্তি দেওয়া হয়
- 📌 অভিযুক্তদের একজন বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কর্মী বলে দাবি করেছেন আবির হোসেন
- 📌 পরে অভিযুক্তদের পুলিশে সোপর্দ করা হয় এবং হেফাজতে নেওয়া হয়
📰 বিস্তারিত
নোয়াখালীর সুবর্ণচরের ভূঁইয়ারহাট এলাকায় মরা মেঘনা নদীর পাড়ে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, তিন মাস আগে একই এলাকায় দুই তরুণ-তরুণীকে হেনস্তা করা হয়েছিল। পরে গত বুধবার সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত তরুণেরা তরুণ-তরুণীকে ঘিরে ধরে অশালীন কথাবার্তা বলছেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় কয়েকজন অভিযুক্ত দুই তরুণকে আটক করে নদীর পাড়ে নিয়ে আসেন। তাঁরা নিজেদের বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর অভিযুক্তদের কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য করা হয়। পরে তাদের নদীতে নেমে ৫০ বার ডুব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা নির্দেশ মেনে ডুব দেন।
এ ঘটনার পর অভিযুক্তদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল হাসান জানান, তরুণ-তরুণীকে হেনস্তার অভিযোগে অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে বলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার জন্য উপস্থাপন করা হলেও ঘটনা তিন মাস আগের হওয়ায় বিচার সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্তদের কান ধরে ওঠবস করানো ব্যক্তিদের একজন আবির হোসেন নিজেকে সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়ন প্রযুক্তি দলের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘তরুণ-তরুণীকে হেনস্তার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দলের বিরুদ্ধে সমালোচনা কমাতে আমরা এমন শাস্তি দিয়েছি। তবে এভাবে শাস্তি দেওয়া ঠিক হয়নি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকিব ওসমান জানান, ঘটনাটি তিন মাস আগের হলেও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি বিষয়টি অবগত হন। পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করেছে। ঘটনা পুরোনো হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচার সম্ভব না হওয়ায় পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
"তরুণ-তরুণীকে হেনস্তার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর যেভাবে দলের বিরুদ্ধে সমালোচনা হচ্ছিল, তাতে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। এর কারণে আজ অভিযুক্ত দুজনকে ধরে আমরা শাস্তি দিয়েছি। তবে এভাবে শাস্তি দেওয়া ঠিক হয়নি। এটা এখন বুঝতে পারছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভূঁইয়ারহাট, সুবর্ণচর, নোয়াখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবির হোসেন (বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা), মো. রফিকুল হাসান (ওসি, চরজব্বার থানা), আকিব ওসমান (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ (ডুব দেওয়ার সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!