📌 সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যৌতুক ও পারিবারিক বিরোধের কারণে স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আসামি জামিন নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় যৌতুক ও পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাতক্ষীরা ট্রাইব্যুনালে আব্দুর রউফ সরদারকে স্ত্রী ও সন্তান নিহতের দায়ে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে
- 📌 ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাতে আব্দুর রউফ তার স্ত্রী সাবিনা ইসলাম ও নাতনি আয়েশা সিদ্দিকার নিথর দেহ পেয়েছিলেন
- 📌 আসামি জামিন নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন, পরে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য দিয়েছে
- 📌 বাদী জাহানারা খাতুন (৫৬) তার মেয়ে সাবিনা ইসলাম (২৬)-কে আব্দুর রউফের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন
📰 বিস্তারিত
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দুর রউফ সরদারকে তার স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেনের রায় অনুযায়ী, আসামি আব্দুর রউফ সরদারকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মামলার বাদী জাহানারা খাতুন (৫৬) কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি সরদার পাড়ার বাসিন্দা। তিনি তার মেয়ে সাবিনা ইসলাম (২৬)-কে আব্দুর রউফের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুকের দাবির কারণে তাদের মধ্যে অশান্তি দেখা দেয়। আব্দুর রউফ তার মায়ের চিকিৎসার খরচের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেল কেনার জন্য সাবিনা ইসলামকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে চাপ দিতে থাকেন। এই বিরোধের কারণে সাবিনা ইসলাম তার সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর প্রতিদিনই আব্দুর রউফ সন্ধ্যায় তার শ্বশুর বাড়িতে আসতেন এবং সকালে চলে যেতেন।
২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে আব্দুর রউফ তার শ্বশুর বাড়িতে আসেন এবং রাতে তার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর রাত ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাইকেলের শব্দ শুনে বাদী জাহানারা খাতুনের ঘুম ভেঙে যায়। তিনি উঠে পাশের ঘরে গিয়ে দেখেন তার মেয়ে সাবিনা ইসলাম ও নাতনি আয়েশা সিদ্দিকার নিথর দেহ পড়ে আছে। আসামি আব্দুর রউফ ততক্ষণে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এই ঘটনার পর জাহানারা খাতুন থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত করে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। আসামি আব্দুর রউফ জামিন নিয়ে পালিয়ে যান। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।
"আব্দুর রউফ সরদার তার স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতক্ষীরা জেলা, কালিগঞ্জ উপজেলা, ঘোনা গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুর রউফ সরদার, বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন, জাহানারা খাতুন, সাবিনা ইসলাম, আয়েশা সিদ্দিকা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ হাজার টাকা (জরিমানা), ২৬ অক্টোবর (রায়), ৫৬ বছর (জাহানারা খাতুন), ২৬ বছর (সাবিনা ইসলাম), ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ (ঘটনা), ১২ জন (সাক্ষী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!