📌 সাতক্ষীরার তালা উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম ও ১০ম শ্রেণির ১৩ ছাত্রীর বাল্যবিবাহের ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। গোপনে মৌলভি ডেকে বিয়ে দেওয়া হয়, যার মধ্যে ১১ জনের বিয়ে আগে থেকেই জানা ছিল। প্রশাসন মুচলেকা নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ও ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বাবার বাড়িতে রাখার ব্যবস্থা করেছে
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৯ম ও ১০ম শ্রেণির ১৩ জন ছাত্রীর বাল্যবিবাহের ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। গত দুই বছরের মধ্যে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গোপনে অন্য এলাকায় নিয়ে মৌলভি ডেকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার ১৩ জন ছাত্রী, তাদের অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ডাকা হয়। তবে উপস্থিত হন মাত্র আটজন ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৩ জন ছাত্রীর বাল্যবিবাহ: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৯ম ও ১০ম শ্রেণির ১৩ জন ছাত্রীর বাল্যবিবাহের ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনের বিয়ে আগে থেকেই জানা ছিল।
- 📌 গোপন বিয়ে: অভিভাবকরা সাতক্ষীরার বাইরে নিয়ে মৌলভি ডেকে গোপনে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তারা।
- 📌 শিক্ষার্থীদের বিয়ের পর চলে যায়: কয়েকজন ছাত্রী ইতিমধ্যে স্বামীর সঙ্গে গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করতে জেলার বাইরে চলে গেছেন।
- 📌 মুচলেকা নেওয়া হয়েছে: প্রশাসন অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বাবার বাড়িতে রাখার ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার নেয়া হয়েছে।
- 📌 তদারকির ব্যবস্থা: শিক্ষার্থীদের নিয়মিত তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে। একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখার জন্য।
📰 বিস্তারিত
সাতক্ষীরা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানান, গত সপ্তাহে ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ১১ জন ছাত্রীর বিয়ে হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে তদন্ত করে দেখা যায়, ওই বিদ্যালয়ের মোট ১৩ জন ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে। এ সম্পর্কে সাতক্ষীরা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার বলেন, “আজ ১৩ জন ছাত্রী, তাদের অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ইউএনওর কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল। সেখানে থানা-পুলিশ ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অভিভাবকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরার বাইরে নিয়ে মৌলভি ডেকে গোপনে এসব বিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তালেব বলেন, “আমরা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অভিভাবকদের সচেতন করি। কিন্তু অনেক সময় বিয়ের বিষয়টি আমরা আগে জানতে পারি না। পরিবারের লোকজনও বিষয়টি গোপন রাখেন। আটজন শিক্ষার্থী বিয়ের পরও বিদ্যালয়ে আসছে। অন্যরাও বিদ্যালয়ে আসবে বলে আজ কথা দিয়েছে।”
বাল্যবিবাহের শিকার এক শিক্ষার্থীর মা বলেন, “আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমাদের কোনো ছেলেসন্তান নেই, দুই মেয়ে। সংসারে আয়রোজগারও কম। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম। তাঁর স্বামীও দুই-তিন মাস হলো বিদেশে চলে গেছে। এত দিন সেই মোটামুটি আমাদের সংসারে সহযোগিতা করত। মেয়েটাও এখন আমার কাছেই আছে। আজ ইউএনও স্যার ডেকে মেয়েকে নিয়মিত স্কুলে পাঠাতে বলেছেন। আমরা এখন থেকে মেয়েকে নিয়মিত স্কুলে পাঠাব।”
তালার ইউএনও জান্নাতুল আফরোজ (স্বর্ণা) বলেন, “অভিভাবকদের স্বীকারোক্তির পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া এবং ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বাবার বাড়িতে রাখার বিষয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। তাদের নিয়মিত খোঁজখবর ও তদারকির জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
"আমরা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অভিভাবকদের সচেতন করি। কিন্তু অনেক সময় বিয়ের বিষয়টি আমরা আগে জানতে পারি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, তালা উপজেলা, সাতক্ষীরা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: নাজমুন নাহার (সাতক্ষীরা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক), আবু তালেব (প্রধান শিক্ষক), জান্নাতুল আফরোজ (স্বর্ণা, তালা ইউএনও), সাকিব হোসেন বাবলা (জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ জন ছাত্রী, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি, ১১ জনের বিয়ে আগে থেকেই জানা ছিল, ১৮ বছর বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!