📌 বাংলাদেশে সার সংকটের কারণে কৃষকরা বিক্ষোভ ও লুটতরাজে লিপ্ত হচ্ছেন। সরকারের তথ্য মতে সার মজুত পর্যাপ্ত হলেও মাঠে সার পৌঁছানোর ব্যর্থতা ও অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতার কারণে সংকট অব্যাহত। কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, নওগাঁ ও ঠাকুরগাঁওতে সারের দাম বাড়ার অভিযোগ ও বিতরণের অসুবিধা দেখা দিচ্ছে
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সার সংকটের কারণে কৃষকরা বিক্ষোভ ও লুটতরাজে লিপ্ত হচ্ছেন। সরকারের তথ্য মতে সার মজুত যথেষ্ট থাকলেও মাঠে সার পৌঁছানোর ব্যর্থতা ও অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতার কারণে সংকট অব্যাহত। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারের পদক্ষেপের কার্যকারিতা প্রশ্নে সন্দেহের সৃষ্টি হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **কুড়িগ্রামে** সার লুটের ঘটনা: রৌমারী মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় ডিলার পয়েন্ট ভাঙচুর ও শতাধিক বস্তা সার লুট করা হয়েছে। ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, সার বিতরণ শুরু না হওয়ায় কৃষকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং গুদামের টিনের বেড়া ভেঙে সার লুট করেন।
- 📌 **বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নে** সড়ক অবরোধ: পাটেশ্বরী ব্রিজপাড়া এলাকায় আমজাদের সারের দোকানের সামনে সড়ক অবরোধ করা হয়।
- 📌 **রাজশাহীতে** আলুচাষিরা সার সংকটে বিক্ষোভ: পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে সারের বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। কৃষি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কৃত্রিমভাবে সার সংকট তৈরি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃষকদের পকেট কাটছেন।
- 📌 **নওগাঁ জেলায়** সারের দাম বাড়ার অভিযোগ: ৫০ কেজির ইউরিয়া ও ডিএপি সারের বস্তায় সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 **সরকারের পদক্ষেপের কার্যকারিতা প্রশ্নে**: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও শীর্ষ কৃষি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, পতিত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের ডিলারসহ অসাধু মহলের অপতৎপরতা সার সংকটের মূল কারণ।
📰 বিস্তারিত
সরকারি হিসাব অনুযায়ী সার মজুত যথেষ্ট থাকলেও কৃষকদের কাছে সার পৌঁছানোর ব্যর্থতা অব্যাহত। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, গত বছরের তুলনায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে কুড়িগ্রাম জেলায় ইউরিয়ার বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইউরিয়ার বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৮৯৪ মেট্রিক টন, এ বছর তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৪৪ টন।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, গত মঙ্গলবার থেকে কৃষি বিভাগের তালিকাভুক্ত খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সার বিক্রি শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এতে করে কৃষকেরা সহজে খুচরা বাজারে সরকার-নির্ধারিত মূল্যে সার পাবেন।’ তবে বাস্তবে কৃষকদের অভিযোগ, সার পাওয়া যাচ্ছে না বা দাম বাড়ানো হচ্ছে।
রাজশাহীতে সার সংকটের কারণে আলুচাষিরা বিক্ষোভে অবতীর্ণ হয়েছেন। পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে সারের বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, মজুতের উদ্দেশ্যে কৃষকেরা আগাম সার কেনার চেষ্টা করছেন। অথচ বর্তমানে মাঠে কী ফসল আছে এবং তাতে কী পরিমাণ সার প্রয়োজন, সে হিসাব করেই বরাদ্দ আসে।
নওগাঁ জেলায় সারের দাম বাড়ার অভিযোগ উঠেছে। মহাদেবপুর উপজেলার খোদ্দনারায়ণপুর এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, ‘সারের এই বাড়তি দামের কারণে চলতি মৌসুমে বাড়তি খরচ হচ্ছে। বাজারে সার পাওয়া যাচ্ছে না, আর পেলেও দিতে হচ্ছে অস্বাভাবিক দাম।’ সদর উপজেলার হাপানিয়া এলাকার কৃষক আফছার মণ্ডল বলেন, ‘নির্ধারিত দামে কিনতে গেলে বলা হয় সার নেই। কিন্তু বেশি টাকা হাতে দিলেই সার বের হয়ে আসছে!’
“গত মঙ্গলবার থেকে কৃষি বিভাগের তালিকাভুক্ত খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সার বিক্রি শুরু করা হয়েছে। এতে করে কৃষকেরা সহজে খুচরা বাজারে সরকার-নির্ধারিত মূল্যে সার পাবেন।”
সরকারের তথ্য মতে, কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলায় প্রতিটি ইউনিয়নে খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে সার বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, সার পাওয়া যাচ্ছে না বা দাম বাড়ানো হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাট জেলায়ও কৃষকদের বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। লালমনিরহাটের কৃষকদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাতের আঁধারে সার বেশি দামে বিক্রি করছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, কৃষক আব্দুর রহমান, আফছার মণ্ডল, আলুচাষি শরিফুল ইসলাম, সালেহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ টা (বেলা), ৩ হাজার ৮৯৪ মেট্রিক টন (গত বছরের ইউরিয়া বরাদ্দ), ৪ হাজার ৬৪৪ টন (এ বছরের ইউরিয়া বরাদ্দ), ৫০০ টাকা (বাড়তি দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!