📌 রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাজেক সড়কে পঞ্চম দিন অবরোধ চলছে। প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের বৈঠকে চারটি দাবি মেনে নেওয়া হলেও জেএসএস সদস্যদের সরানোর দাবি প্রত্যাখ্যাত হলে বৈঠক ব্যর্থ হয়। অবরোধকারীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে পঞ্চম দিন অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক ব্যর্থ হয়ে যায়। পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটি মেনে নেওয়া হলেও জেএসএস সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরানোর দাবি মেনে না নেওয়ায় আলোচনা অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। অবরোধকারীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাজেক সড়কে পঞ্চম দিন অবরোধ চলছে; সড়কে যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ
- 📌 প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের বৈঠকে চারটি দাবি মেনে নেওয়া হলেও জেএসএস সদস্যদের সরানোর দাবি প্রত্যাখ্যাত
- 📌 অবরোধকারীদের পাঁচটি দাবির মধ্যে একটি দাবি মেনে না নেওয়ায় বৈঠক অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়
- 📌 অবরোধকারীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন
- 📌 সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন
- 📌 রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীকে বৈঠকের বিষয়ে ফোন ও মেসেজ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি
📰 বিস্তারিত
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে পঞ্চম দিন অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। সকাল ৬টার দিকে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের ১০ নম্বর এলাকা, হাজাছড়া ও মাচালং এলাকাসহ সাজেক সড়কের বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ পালন করা হয়। এতে সড়কে যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। অবরোধ নিরসনের জন্য উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের উজো বাজারে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত, খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খাঁন, বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান, সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন। আন্দোলনকারীদের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা, সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা।
বৈঠকে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের কাছে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। তবে চারটি দাবি মেনে নেওয়া হলেও একটি দাবি মেনে না নেওয়ায় বৈঠক অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল: অবরোধকারীদের উপর হামলায় জড়িতদের শাস্তি, উজো বাজারের দোকানপাট ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মারধর করা নারী-পুরুষদের চিকিৎসা, জেএসএস সদস্যদের সাজেক থেকে সরানো এবং আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী তকমা লাগিয়ে গ্রেপ্তার করা বন্ধ করা। তবে জেএসএস সদস্যদের সরানোর দাবি নিয়ে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সমঝোতা হয়নি।
বৈঠকের পর সন্ধ্যা সোমবার সাড়ে ৭টার পর দিকে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “অবরোধকারীদের পাঁচ দফার মধ্যে চারটি মীমাংসার বিষয়ে দুই পক্ষে সমঝোতায় হয়েছে। সাজেক থেকে জেএসএস সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া নিয়ে পুনরায় কয়েকদিনের মধ্যে আলোচনা হবে।”
ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠকে প্রশাসন আমাদের পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটি দাবি মেনে নিলেও ৪ নম্বর দাবিটি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। প্রশাসন ৪ নম্বর দাবিটি সমাধানে তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছে। কিন্তু আমরা তাদের পাঁচ দিন সময় দিয়েছি, প্রশাসন তা মানতে রাজি না হওয়ায় বৈঠক অমীমাংসিত শেষ হয়েছে।”
"অবরোধকারীদের পাঁচ দফার মধ্যে চারটি মীমাংসার বিষয়ে দুই পক্ষে সমঝোতায় হয়েছে। সাজেক থেকে জেএসএস সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া নিয়ে পুনরায় কয়েকদিনের মধ্যে আলোচনা হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাঘাইছড়ি উপজেলা, রাঙামাটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, উষাতন চাকমা, নাজমা আশরাফী, মুহম্মদ আব্দুর রকিব, মোরতোজা আলী খাঁন, আমেনা মারজান, তোফাজ্জল হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ দিন অবরোধ, ৫টি দাবি, ৪টি মেনে নেওয়া, ১টি প্রত্যাখ্যাত, ৩০ জনের নামের মামলা, ১০০০+ অজ্ঞাতপরিচয়, ৩ সপ্তাহ সময় চেয়েছে প্রশাসন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!