📌 পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ইয়াবা সেবনের পর আপন খালু আল-আমিন রাতভর জেগে ১০ মাসের শিশু রাইয়ানকে হত্যা করে মরদেহ গুম করেন। আদালতে স্বীকারোক্তিতে তিনি বলেছেন, হত্যার পরিকল্পনা করে শিশুটিকে কাপড়ের ব্যাগে বেঁধে খালে ফেলে দেন। শিশুর মা রুমানা দাবি করেন, হত্যার পিছনে গডফাদারদের হুমকি এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবার ভীতিকর পরিস্থিতিতে রয়েছে
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ইয়াবা সেবনের পর আপন খালু আল-আমিন রাতভর জেগে ১০ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশু রাইয়ানকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করেন। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আল-আমিন বলেছেন, তিনি শিশুটিকে কাপড়ের ব্যাগে বেঁধে খালে ফেলে দেন। শিশুর মা রুমানা বেগম দাবি করেন, হত্যার পিছনে গডফাদারদের হুমকি এবং রাজনৈতিক দলের সদস্যদের জড়িত থাকার কারণে পরিবার নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০ মাসের শিশু রাইয়ান পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খালু আল-আমিনের হাতে নৃশংসভাবে হত্যা হন। আল-আমিন রাতভর ইয়াবা সেবনের পর শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করেন।
- 📌 আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন আল-আমিন। তিনি বলেছেন, শিশুটিকে কাপড়ের ব্যাগে বেঁধে কচুরিপানার নিচে খালে ফেলে দেন।
- 📌 শিশুর মা রুমানা বেগম দাবি করেন, হত্যার দিন সকালে আল-আমিন বেলা ১১টার আগ পর্যন্ত নিখোঁজ রাইয়ানের খোঁজার ভান করেন।
- 📌 রুমানা অভিযোগ করেন, আল-আমিনের সহযোগী গডফাদারদের হুমকির কারণে পরিবার নিরাপত্তাহীন। তার বোনের স্বামী হলেও আল-আমিন মাদকসেবী ও পেশাদার চোর।
- 📌 ১৫ অক্টোবর রাতে পুলিশ আল-আমিনকে আটক করার পর তার কথিত গডফাদাররা পরিবারের সামনে গিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেন।
📰 বিস্তারিত
আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে আল-আমিন বলেছেন, হত্যার আগে তিনি সারা রাত জেগে ইয়াবা সেবন করেন। ভোরে আজানের সময় তিনি শ্যালিকা রুমানার বাড়িতে যান। পেছন দিক থেকে ঘরে উঁকি দিয়ে রুমানাকে ঘরের পিঁড়ি লেপার কাজ করতে দেখেন। এরপর তিনি এক হাতে শিশু রাইয়ানকে কোলে তুলে নিয়ে অন্য হাতে তার মুখ চেপে ধরে বুকের সঙ্গে চেপে নিজের বাড়ির দিকে চলে যান। পরে তিনি শিশুটিকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যান, যেখানে তিনি দেখতে পান রাইয়ান নিথর হয়ে গেছে। নড়াচড়া না করায় তিনি মনে করেন রাইয়ান মারা গেছে। এরপর তিনি শিশুটির মরদেহ কাপড়ের কালো ব্যাগে বেঁধে ফেলেন এবং ব্যাগটি হেলালের ঘরের টিনের চালার ওপর রেখে দেন।
আল-আমিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তিনি ব্যাগটি খালে ফেলে দেন, কিন্তু ব্যাগটি ডুবে না যাওয়ায় আবারও খালে নেমে কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে রাখেন। এরপর তিনি নলকূপে পানিতে হাত-পা ধুয়ে বাড়িতে গিয়ে পান খেয়ে ধূমপান করেন। স্বীকারোক্তিতে তিনি বলেছেন, রাইয়ান নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর তিনি নিজের ছেলে ও ছেলের বউকে শিশুটিকে খুঁজতে ওই বাড়িতে যেতে বলেন। নিজেও খোঁজাখুঁজিতে অংশ নেন এবং শ্যালিকা রুমানাকে পুকুরে খুঁজতে বলেন।
শিশুর মা রুমানা বেগম দাবি করেন, রাইয়ানের ঘাড় মটকে এবং হাত-পা ভেঙে হত্যার পর কাপড়ের বাজারের ব্যাগে ভরে কচুরিপানার নিচে খালে ফেলে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ভগ্নিপতি আল-আমিনই এ নৃশংসতা চালিয়েছেন। হত্যার দিন সকালে নিজের বাড়িতে বেলা ১১টা পর্যন্ত নিখোঁজ রাইয়ানকে খোঁজার ভান করেন আল-আমিন। রুমানা অভিযোগ করেন, কারাগারে থাকা আল-আমিনের সহযোগী ও কথিত গডফাদারদের হুমকির কারণে পরিবার নিরাপত্তাহীন। তার অপর দুই সন্তান ১৪ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রী তানহা ও আট বছর বয়সী তাহিরা এবং কর্মজীবী স্বামী রাসেল খানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি।
"আমি পাঁচ বছর ধরে বিদেশে থাকতাম। মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হলেও বাড়িতে আসতাম না। এ বিরোধ মেটাতে অনেকের কাছে গিয়েও সমাধান পাইনি। সর্বশেষ শ্যালিকা রুমানার কাছে গেলে তিনি উল্টো জুতা দিয়ে মারতে উদ্যত হন এবং দুইবার আঘাত করেন। এছাড়া আবার ওই বাড়িতে গেলে জুতা দিয়ে মারার হুমকিও দেওয়া হয়।"
তদন্ত কর্মকর্তা কলাপাড়া থানার উপপরিদর্শক মো. ফোরকান মিয়া জানান, আদালতের নির্দেশে ১৮ অক্টোবর আল-আমিনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। চার দিন পর হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তিনি। ২১ অক্টোবর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলাপাড়া, পটুয়াখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আল-আমিন (খুনি), রুমানা বেগম (শিশুর মা), ফোরকান মিয়া (উপপরিদর্শক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ মাস (শিশুর বয়স), ১৬৪ (ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা), ১৮ ও ২১ অক্টোবর (আদালতের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!