📌 পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলে ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ২০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পানি বাড়ার কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। দুটি ইউনিয়নের ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন এবং ২০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি বাড়ার কারণে যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এবং কৃষকদের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামে ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী — রামকৃষ্ণপুরে ৩৫ হাজার, চিলমারীতে ২৫ হাজার
- 📌 পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় হার্ডিঞ্জ সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় ১৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে — আগের উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ২ সেন্টিমিটার
- 📌 ২০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত, লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে
- 📌 পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের গুজব ছড়িয়েছে, কিন্তু প্রশাসন তা নাকচ করেছে
- 📌 পানি বাড়ায় ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমি প্লাবিত, রোপা আমন ধান ও কলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
📰 বিস্তারিত
দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৫ হাজার ও চিলমারী ইউনিয়নের ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী আছেন। ইউনিয়ন দুটির অধিকাংশ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ইনসাফনগর গ্রামের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এলাকার সব ডুইবি গেছে। বাড়ির উঠানে ও বাইরে পানি। যেগুলো মাটি তুলি উঁচু করা সেগুলোতে পানি কম ডুকছে।
জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা জানান, ভারতে প্রচুর বৃষ্টির কারণে পদ্মা নদীর পানি বেড়ে গেছে। হার্ডিঞ্জ সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৬ সেন্টিমিটার। আগের উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ২ সেন্টিমিটার। পানির বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান বলেন, পানি বাড়ার কারণে গত কয়েক দিনে ২০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, পানি বাড়ায় বিষধর সাপের উপদ্রব বেড়েছে। ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন অনেকেই। পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় নৌকায় ও ভেলায় চলাফেরা করছেন মানুষ। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।
"পানি বাড়ায় বিষধর সাপের উপদ্রব বেড়েছে। ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে।"
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। জরুরি ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত খোঁজ রাখা হচ্ছে। শুকনা খাবার, ওষুধ ও মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসাবে, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দৌলতপুর উপজেলা, কুষ্টিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসাদুজ্জামান, মিজানুর রহমান, আবদুল মান্নান, অনিন্দ্য গুহ, রেহেনা পারভীন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ হাজার (পানিবন্দী), ৩৫টি গ্রাম, ২০টি বাড়িঘর, ১৬ সেন্টিমিটার (পানি বাড়া), ৩৫০ হেক্টর (ফসল ক্ষতিগ্রস্ত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!