📌 নোয়াখালীর চরজব্বরে আ.লীগের প্রভাবে জমি দখলের অভিযোগে একরামুল হক চরজব্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা বিএনপির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে, কিন্তু অতীতের আ.লীগের রাজনৈতিক প্রভাবের পেছনে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে
নোয়াখালীর চরজব্বর থানায় জমি দখলের রাজনৈতিক খেলার অভিযোগে একরামুল হক (৫০) অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, আ.লীগের প্রভাবে জমি দখল করে বিএনপিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নোয়াখালীর চরবাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে সাইদুল হক ও তার স্ত্রী ময়ুরা খাতুনের নামে ২৪ শতাংশ সরকারি জমি ক্রেতাদের নামে রেজিস্ট্রি না করে দখলের চেষ্টা চলছে
- 📌 অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন রুবেল (২৮), মো. শিপন (৪৫), মো. খোকন (৩৮) ও মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৪) গত ২০ অক্টোবর জমি দখলের চেষ্টায় ভুক্তভোগীর দোকানপাট ভাঙচুর করে
- 📌 স্থানীয়রা দাবি করছেন, সাইদুল হকের ছেলেরা অতীতের আ.লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল করতেন, বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করছেন
- 📌 অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের মামলায় কারাগারে থাকা অবস্থায়ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে
📰 বিস্তারিত
নোয়াখালীর চরজব্বর থানায় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভুক্তভোগী একরামুল হক অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি বলেন, ২০১০ সালে তার চাচা সিরাজ মিয়া নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সরকারি বন্দোবস্তীয় ২৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেছিলেন। জমি কেনার পর সেখানে দোকানপাট নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন তিনি। নোটারি চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, সরকারি জরিপে জমিটি বিক্রেতাদের নামে রেকর্ডভুক্ত হলে ক্রেতাদের নামে জমি রেজিস্ট্রি করা হবে।
২০২৩ সালের ১ মে সাইদুল হকের মৃত্যুর পর সরকারি জরিপে জমিটি তার ও স্ত্রী ময়ুরা খাতুনের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। কিন্তু ওয়ারিশ হিসেবে তাঁদের ছেলেরা জমি ক্রেতাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা না করে জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। গত ২০ অক্টোবর সকালে দেলোয়ার হোসেন রুবেলসহ চারজন পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা বাধা দিলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি দেখান এবং দোকানপাট ভাঙচুর করে জমি দখলের চেষ্টা চালান।
স্থানীয়রা দাবি করছেন, সাইদুল হকের ছেলেরা অতীতের আ.লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে জমি দখল ও নির্যাতন চালাতেন। বর্তমানে তারা রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করছেন। স্থানীয়দের আরও দাবি, দেলোয়ার হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
"জমির প্রকৃত ক্রেতাদের নামে রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে উল্টো তাঁদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।"
চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা বলেন, সাইদুল হক জীবিত থাকাকালে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সিরাজ মিয়াসহ কয়েকজনের কাছে জমি বিক্রি করেছিলেন। পরবর্তীতে ক্রেতারা সেখানে দোকানপাট নির্মাণসহ ভোগদখল করে আসছেন। আ.লীগ সরকারের শেষ সময়ে সাইদুল হকের ছেলেরা জমি দখলের চেষ্টা করেছিলেন এবং দুটি কক্ষ দখলও করেছিল। ইউনিয়ন পরিষদে মামলা হলে শুনানি শেষে ক্রেতাদের পক্ষে রায় হয়। কিন্তু বর্তমানে আবারও তারা জমি দখলের চেষ্টা করছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নোয়াখালী, চরজব্বর থানা, চরবাটা ইউনিয়ন, খাসেরহাট রাস্তা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: একরামুল হক (৫০), দেলোয়ার হোসেন রুবেল (২৮), সিরাজ মিয়া, সাইদুল হক, ময়ুরা খাতুন, গোলাম মাওলা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ শতাংশ জমি, ২ নম্বর ওয়ার্ড, ২০১০ সাল, ১ মে ২০২৩, ২০ অক্টোবর ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!