📌 ঢাকার পল্লবীর একটি ক্লিনিকের নাইটগার্ড মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ঋণ ও দুই বউয়ের যন্ত্রণায় নিজে অপহরণের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে যান। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর জাহাজে কাজ করার সময় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। সহযোগী রিপনকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে
ঢাকার পল্লবী এলাকার একটি ক্লিনিকের নাইটগার্ড মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নিজেই সাজিয়েছিলেন অপহরণের নাটক। ঋণের চাপ ও দুই পরিবারের ভরণপোষণের যন্ত্রণায় তিনি সিসিটিভি ফুটেজের মতো একটি ভিডিও সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেন। পরে নিজে আত্মগোপনে যান এবং চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ‘সি হার্ট-২’ নামের মাছ ধরার জাহাজে বাবুর্চির কাজ নেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঋণ ও দুই বউয়ের যন্ত্রণায় নিজে অপহরণের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে যান মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম
- 📌 সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১১ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে নজরুলকে সাদা বস্তায় করে নিয়ে যাওয়া হয়
- 📌 এক ঘণ্টা পর নিজেই বের হয়ে গেটে বসেন এবং রিকশায় চলে যান — ঘটনাটি অপহরণের নাটক প্রমাণিত
- 📌 সহযোগী রিপনকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, চট্টগ্রামে নজরুলকে উদ্ধার করা হয়
- 📌 ১৬-১৭ বছর ধরে ক্লিনিকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন নজরুল, মাসিক বেতন ১৭ হাজার টাকা
- 📌 ঋণ ও সুদের টাকা মিলিয়ে নজরুলের দেনা প্রায় ছয়-সাত লাখ টাকা
📰 বিস্তারিত
পুলিশের তথ্য মতে, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ঋণের চাপে নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও সৃষ্টি করেন। তিনি সহযোগী হাসান তারেক ওরফে রিপনের সহায়তায় এই পরিকল্পনা করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে এক ব্যক্তি সাদা বস্তায় করে নজরুলকে ক্লিনিকের প্রধান ফটকের সামনে নিয়ে আসেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে নজরুল নিজেই বস্তা থেকে বের হয়ে গেটের সামনে বসেন। পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে রিকশায় করে সেখান থেকে চলে যান তিনি।
সোমবার সকালে কর্ণফুলী নদীর মাঝখান থেকে নজরুলকে উদ্ধার করে পল্লবী থানা-পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ক্লিনিক থেকে যাওয়ার পর নজরুল প্রথমে গাবতলী যান। সেখান থেকে বাসে চট্টগ্রামের একে খান এলাকায় পৌঁছান। পরে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে কর্ণফুলীর ইছানগরে অবস্থান নেন। এরপর ‘সি হার্ট-২’ জাহাজে বাবুর্চির কাজ নেন। সেখান থেকেই তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপপুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বলেন, নজরুল ওই ক্লিনিকে ১৬-১৭ বছর ধরে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর মাসিক বেতন প্রায় ১৭ হাজার টাকা। তাঁর দুই স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ এবং সুদের টাকা মিলিয়ে তাঁর প্রায় ছয়-সাত লাখ টাকা দেনা রয়েছে। দুই পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের বিয়ে এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপও ছিল তাঁর ওপর।
পুলিশের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি প্রকৃত অপহরণের ঘটনা নয়। আর্থিক ও পারিবারিক সংকট থেকে নজরুল পূর্বপরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে যান এবং ঘটনাটিকে অপহরণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। এ কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেন রিপন। তবে এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না কিংবা আত্মগোপনের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
"আর্থিক ও পারিবারিক সংকট থেকে নজরুল পূর্বপরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে যান এবং ঘটনাটিকে অপহরণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পল্লবী (ঢাকা), কর্ণফুলী নদী (চট্টগ্রাম), গাবতলী (ঢাকা), একে খান (চট্টগ্রাম), ইছানগর (চট্টগ্রাম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, হাসান তারেক (রিপন), মো. মোস্তাক সরকার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ সেপ্টেম্বর, ১১ সেপ্টেম্বর, ৪টা ৪৭ মিনিট, ৫টা ৪৫ মিনিট, ১৬-১৭ বছর, ১৭ হাজার টাকা, ছয়-সাত লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!