📌 রাজধানীর নিউ গিনি প্রজেক্টে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভয়াবহ হামলায় ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র, শটগান ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় অবস্থিত নিউ গিনি প্রজেক্টে সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস স্টুডিও’তে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। এই হামলায় প্রজেক্টের ৯৫ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস স্টুডিও’তে ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয় ভাঙচুর ও লুটপাটে
- 📌 হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র, শটগান, রিভলবার, ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে ৫০ রাউন্ড গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি
- 📌 প্রজেক্টের সাইড ইঞ্জিনিয়ার ও নিরাপত্তা কর্মীদের মারধর করে মারাত্মক জখম করা হয়
- 📌 মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি (মামুন, আসলাম, মুন্না) কারাগারে আটক রাখার আদেশ পায়
- 📌 মামলায় ১৩ জন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এর মধ্যে ৩ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে
- 📌 হামলাকারীরা ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়
📰 বিস্তারিত
২৬ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে নিউ গিনি প্রজেক্টে হামলা চালিয়ে আসামিরা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। প্রজেক্ট ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে রোববার ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র, শটগান, রিভলবার, চাপাতি, রামদা ও লাঠিসোটা ব্যবহার করে প্রজেক্টে প্রবেশ করে। তারা ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং প্রজেক্টের সাইড ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজ এবং নিরাপত্তা কর্মীদের মারধর করে মারাত্মক জখম করেন।
হামলাকারীরা মেইন গেট, গ্লাস ও ফার্নিচার ভাঙচুর করে নগদ টাকা, রড, বাইক ও অন্যান্য সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রজেক্টের মেইন গেট, থাইগ্লাস ও কেঁচি গেট ভাঙচুর করে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এছাড়া অফিসের ভেতরে কম্পিউটার, মনিটর, ফ্রিজ, টিভি, আলমারি ভাঙচুর করে আরও ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। প্রজেক্টের অফিস রুমের লকার ভেঙে নির্মাণ সামগ্রী কেনার জন্য রাখা ২৫ লাখ টাকা, বিভিন্ন সাইজের ২০০ ফুট তার (৫৫ লাখ টাকা), ২৩ টন রড ও একটি ৪ লাখ টাকার স্কুটার চুরি করা হয়। মোট ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং লুট করা মালামালের মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
হামলাকারীরা পুলিশকে গুলি করে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। পরবর্তীতে মামলার ১১ ও ১২ নম্বর আসামি মো. মামুন (৩২) ও মো. আসলাম (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২টি ও ১টি কাঠের বাটসহ ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের ৫টি ব্যবহৃত বুলেটের খোসা জব্দ করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৩ নম্বর আসামি মুন্নাকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় আসামিরা সামান্য আহত হওয়ায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
"মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে এজলাসে নেওয়া হয়নি। তাদের পক্ষে কোনো আবেদন ছিল না। আদালত হাজতি পরোয়ানা মূলে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।"
মামলায় এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন শাহরিয়া মাহমুদ (৬০), মো. আবুল কাশেম (৫৩), মো. বাবুল হোসেন (৪৯), মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী (৬৭), মোহাম্মদ সাহিনুজ্জামান (৪৭), মো. মতিউর রহমান (৪৮), মজিবুর রহমান (৪৭), নুরুল ইসলাম (৫১), মিজানুর রহমান (৫৯), এমকে আজাদ (৫৪), মো. মামুন (৩২), মো. আসলাম (২৪) ও মুন্না (২৯)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে মামলায়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউ গিনি প্রজেক্ট, ক্যান্টনমেন্ট থানা, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সালমান মুক্তাদির, সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, মামুন (৩২), আসলাম (২৪), মুন্না (২৯), ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান, পুলিশ পরিদর্শক সুরত দেবনাথ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৫ লাখ টাকা (ক্ষতি), ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা (লুট করা মালামাল), ৩ আসামি (কারাগারে), ১৩ জন আসামি (মোট), ১৫০-২০০ জন (অজ্ঞাতনামা আসামি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!