📌 মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় ব্যবসায়ী আবদুল মতিন (৩৫) পতিত জমিতে সবজির বাগান গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি ব্যবসার পাশাপাশি কৃষিকাজ থেকে প্রতি বছর লাখ টাকারও বেশি আয় করছেন। আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি টমেটো, লাউ, শসা ও তরমুজ চাষ করছেন
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার দক্ষিণ জাঙ্গিরাই এলাকায় ব্যবসায়ী আবদুল মতিন (৩৫) পতিত জমিকে সবজির বাগানে রূপান্তরিত করেছেন। বর্তমানে তিনি ব্যবসার পাশাপাশি কৃষিকাজ থেকে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন। দক্ষিণ জাঙ্গিরাই এলাকার এই বাগানে প্রতি বছর সারা বছরই নানা ধরনের সবজি চাষ হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার দক্ষিণ জাঙ্গিরাই এলাকায় ব্যবসায়ী আবদুল মতিন (৩৫) পতিত জমিতে সবজির বাগান গড়ে তোলেন
- 📌 ২০২২ সালে ২০ শতক জমি ইজারা নেওয়ার পর শুরু করেন সবজি চাষ, প্রথম মৌসুমে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা লাভ
- 📌 আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতি মৌসুমে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচে টমেটো, লাউ, শসা ও তরমুজ চাষ করছেন
- 📌 বর্তমানে ৩০ শতক জমিতে টমেটো, ২০ শতকে লাউ, ১৫ শতকে শসা ও ১৫ শতকে তরমুজ চাষ করা হয়েছে
- 📌 গ্রীষ্মে শীতকালীন সবজি চাষের মাধ্যমে বাজারের চাহিদা পূরণ ও লাভবান হন
- 📌 বাগানে নিয়োজিত একজন শ্রমিকের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন
📰 বিস্তারিত
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার দক্ষিণ জাঙ্গিরাই এলাকায় অবস্থিত একটি ছোট সড়কের পাশে বর্তমানে সবুজে ঘেরা একটি বাগান। এই বাগানটি গড়ে তোলেছেন ব্যবসায়ী আবদুল মতিন। তিনি বলেন, “জায়গাটা বেকামা পড়েছিল, কামে লাগাইলাম আরকি। সারা বছরই খেতে সবজি থাকে।” মতিনের বাগানে প্রতি বছর টমেটো, লাউ, শসা, তরমুজ ও আলু চাষ হয়। বর্তমানে তিনি ৩০ শতক জমিতে টমেটো, ২০ শতকে লাউ, ১৫ শতকে শসা ও ১৫ শতকে হলুদ তরমুজ চাষ করছেন।
২০২২ সালে মতিনের পরিবারের প্রায় ২০ শতক জমি পতিত ছিল। তিনি ওই জমির পাশে অন্য এক মালিকের প্রায় দুই বিঘা (৬০ শতক) জমি ইজারা নেন। ইজারা দাম ছিল বছরে ২৫ হাজার টাকা। পরিকল্পনা ছিল সেখানে শাকসবজি চাষ করা। প্রথমে তিনি স্থানীয় কৃষক তাজুল ইসলামের সহযোগিতায় কাজ শুরু করেন। মতিন পুঁজি দেন, আর তাজুল শ্রম দেন। প্রথমবার পুরো জমিতে টমেটো, ধনেপাতা, কাঁচা মরিচ ও বেগুন চাষ করা হয়। জমি প্রস্তুত, বীজ, চারা, সার, সেচ, বাঁশের খুঁটি ও বেড়া তৈরিতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। পরে সবজি বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা লাভ করেন। লাভের টাকা দুজন ভাগ করে নেন।
২০২৩ সাল থেকে মতিন একা সবজি চাষ শুরু করেন। তিনি প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়ে জমিতে চলে যান। সকাল নয়টা থেকে সাড়ে নয়টার দিকে বাড়ি ফিরে গোসল ও নাশতা সেরে চলে যান দোকানে। রাতে বাড়ি ফেরেন। বাগানে নিয়োজিত একজন শ্রমিকের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন তিনি। দিনের বাকি সময় জমি পরিচর্যার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে একজন শ্রমিক রেখেছেন।
মতিন বলেন, “আমি প্রথমবার সরাসরি মাটিতে সবজি চাষ করেছি। কিন্তু বৃষ্টিতে জমির মাটি সরে গিয়ে সমস্যা হতো। তাই দ্বিতীয়বার চাষপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনলাম। ব্যবহার শুরু করলাম মালচিং পেপার ও পলিশেড। এখন প্রতি মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। গ্রীষ্মকালে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করি। পাশাপাশি তরমুজ, শসা, লাউ ও করলার চাষ করি। শীতকালে চাষ করি লাউ, টমেটো ও আলু।”
"জায়গাটা বেকামা পড়ি আছিল, কামে লাগাইলাম আরকি। সারা বছরই খেতে সবজি থাকে। ঘরে খাওয়ার সবজি কেনা লাগে না বলতে পারেন। আমরা তিন ভাই। বাকি দুই ভাইয়ের পরিবারেও সবজি দিই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ জাঙ্গিরাই, জুড়ী উপজেলা, মৌলভীবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল মতিন (৩৫), তাজুল ইসলাম (৪০)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫ বছর (মতিনের বয়স), ২০ শতক (মতিনের জমি), ৬০ শতক (ইজারা জমি), ২৫ হাজার টাকা (ইজারা দাম), ৪০ হাজার টাকা (প্রথম মৌসুমের খরচ), ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা (প্রথম মৌসুমের লাভ), ১৫ হাজার টাকা (শ্রমিকের মাসিক বেতন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!