📌 মিরপুর ও গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলেও শ্রমিকরা ইটপাটকেল ছোড়েন। গাজীপুরের শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়
মিরপুর ও গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকরা আজ সোমবার সকাল থেকে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সড়ক অবরোধের মাধ্যমে আন্দোলন শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। রাজধানীর মিরপুর-১০ ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলেও শ্রমিকরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিরপুর-১০ ও গাজীপুরের শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন, টিয়ার শেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে
- 📌 গাজীপুরের শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করা হয়
- 📌 শ্রমিকদের দাবি: মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা, বর্তমান মজুরি বৃদ্ধি না হওয়ায় জীবনযাপন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে শ্রমিকদের দাবি ও সহিংসতার বিষয় আলোচিত হয়
- 📌 পুলিশ ওসি হাফিজুর রহমান জানান, শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে
📰 বিস্তারিত
মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় সকাল সোয়া ৯টার দিকে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলেও শ্রমিকরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। গতকাল রোববারও একই এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ ও কারখানা ছুটি অন্যদিকে, সকাল থেকে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক, পল্লী বিদ্যুৎ এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিলে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করা হলে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেন।
শিল্প এলাকার সার্বিক নিরাপত্তায় বিভিন্ন কারখানার সামনে শিল্প পুলিশ ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন বলেন, ‘গতকাল গাজীপুরের শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। আজও বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। বিভিন্ন স্থান থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।’
সকাল ৮টা থেকেই কোনাবাড়ী ও সফিপুরসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি হলো, মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা। বিক্ষোভরত এক শ্রমিক বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও আমাদের মজুরি সে অনুযায়ী বাড়েনি। একটি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতেই খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। শুধু মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, আমাদের বেতন কত নির্ধারণ করা হয়েছে তা দ্রুত ঘোষণা করতে হবে।’
"শ্রমিকেরা রাস্তা অবরোধ করতে এসেছিল। আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি।"
— মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর-১০, গাজীপুর (কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক, ভোগড়া বাইপাস)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শ্রমিকরা, পুলিশ ওসি হাফিজুর রহমান, গাজীপুর শিল্প পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ হাজার টাকা (মজুরি দাবি), ২ হাজার ৫০০ টাকা (গ্যাস সিলিন্ডার দাম), ১০ নম্বর (মিরপুর এলাকা), ৮ টা (ছুটি ঘোষণা সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!