📌 ভোলার লালমোহন উপজেলায় যুবদল নেতা মো. জসিম উদ্দিন ও সহযোগী মাসুম বিল্লাহের বিরুদ্ধে শতাধিক সরকারি গাছ কাটা ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া অবস্থায় গাছ কাটা হয়েছে এবং ৫০ লাখ টাকার মূল্যের গাছ বিক্রি করা হয়েছে
ভোলার লালমোহন উপজেলায় কর্তারহাট-রমাগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণের কাজের প্রেক্ষিতে যুবদল নেতা মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে শতাধিক সরকারি গাছ কাটা ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দরপত্র ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া অবস্থায় গাছ কাটা হয়েছে এবং এতে অন্তত ৫০ লাখ টাকার মূল্যের গাছের অপচয় হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ও শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে শতাধিক সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 অভিযোগে বলা হয়, গাছের আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা। কাটা গাছের অধিকাংশ রাতের আঁধারে কাভার্ড ভ্যানে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে।
- 📌 স্থানীয় স্ব-মিল মালিক মো. মনিরের বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, গাছ কাটার শ্রমিক ঠিক করেছেন জসিম মাস্টার ও মাসুম বিল্লাহ।
- 📌 গাছ কাটার শ্রমিক মো. মামুন জানান, জসিম মাস্টারের নির্দেশে গাছ কাটা হয়েছে।
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেছেন, দরপত্র প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।
- 📌 উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম খান জানান, গাছগুলোর মালিকানা নিয়ে বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
📰 বিস্তারিত
ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নে কর্তারহাট থেকে রমাগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য কিছু গাছ কাটা প্রয়োজন ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেকের নির্দেশে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে কাটার উপযোগী গাছের সংখ্যা ও সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিন পরিদর্শন করে ২৪টি গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, রেইনট্রি, মেহগনি ও চাম্বুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির চার শতাধিক গাছ ইতোমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কাটা গাছের অধিকাংশ রাতের আঁধারে কাভার্ড ভ্যানে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে গাছ বিক্রি করা হয়েছে। কিছু গাছ স্থানীয় মো. মনিরের স্ব-মিলে রেখে বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। গাছ কাটার চিহ্ন আড়াল করতে অনেক গাছের গোড়া সড়কের চলমান কাজের মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কিছু গাছ গোড়াসহ উপড়ে ফেলা হয়েছে।
গাছ কাটার শ্রমিক মো. মামুন বলেন, তিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গাছ কাটার কাজ করেছেন। তিনি জানান, জসিম মাস্টারের নির্দেশে কর্তারহাট-রমাগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে গাছ কেটেছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় স্ব-মিল মালিক মো. মনিরের বিরুদ্ধেও গাছ কাটা ও বিক্রিতে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেন, রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল নেতা জসিম মাস্টার ও মাসুম বিল্লাহর কথামতো গাছ কাটার শ্রমিক ঠিক করেছেন তিনি। তবে নিজে কোনো গাছ কাটেননি বলে দাবি করেছেন মনির।
মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, কর্তারহাট-রমাগঞ্জ সড়কের পাশের ৪৮টি গাছ এক লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দরপত্রের মাধ্যমে পেয়েছেন। ওই গাছগুলোই তারা কাটছেন। উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম খান জানান, গাছগুলোর মালিকানা নিয়ে দ্বিধা রয়েছে এবং এ বিষয়ে বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, সড়কের পাশ থেকে গাছ কাটা হচ্ছে, বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন।
"আমি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গাছ কাটার কাজ করি। জসিম মাস্টারের নির্দেশে কর্তারহাট-রমাগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে গাছ কেটেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লালমোহন উপজেলা, ভোলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. জসিম উদ্দিন (রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ও শিক্ষক), মো. মনির (স্ব-মিল মালিক), মো. মামুন (গাছ কাটার শ্রমিক), মাসুম বিল্লাহ, মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক (ইউএনও)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ লাখ টাকা (গাছের মূল্য), ২৪টি (অনুমোদিত গাছ), ৪৮টি (দরপত্রে অনুমোদিত গাছ), ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা (দরপত্র মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!