📌 লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলায় গোচারণভূমিতে ছাগল খুঁজতে গিয়ে শরীফা বেগম চিতা বাঘের আক্রমণে আহত হন। আক্রমণে ছাগলটি নিহত হয় এবং উদ্ধার করতে এসে আরো দুজন আহত হন। বন বিভাগের তল্লাশিতে বাঘটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ভারতে ফিরে গেছে
লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে ২৫ অক্টোবর বিকেলে একটি চিতা বাঘের আক্রমণে শরীফা বেগমসহ তিনজন আহত হন। ছাগল খুঁজতে গিয়ে শরীফা বেগম চিতা বাঘের সামনে পড়েন এবং আক্রমণে আহত হন। উদ্ধার করতে এসে আরো দুজন আহত হন। ঘটনাস্থলে বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে বাঘটির কোনো হদিস পাওয়া না পেয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৫ অক্টোবর বিকেলে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে শরীফা বেগমের ছাগল খুঁজতে গিয়ে চিতা বাঘের আক্রমণে তিনজন আহত হন।
- 📌 চিতা বাঘের আক্রমণে শরীফা বেগমের ছাগলটি নিহত হয় এবং পায়ের ছাপ ও কামড়ের গভীরতা থেকে নিশ্চিত করা হয় যে, এটি চিতা বাঘ।
- 📌 বন বিভাগের তল্লাশিতে চিতা বাঘটির কোনো হদিস পাওয়া না পেয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সদস্যরা। তাদের ধারণা, বাঘটি ভারতে ফিরে গেছে।
- 📌 গোতামারীসহ পাঁচ ইউনিয়নে বিজিবির সহায়তায় তল্লাশি চালানো হয় এবং মানুষকে সতর্ক করার জন্য মাইকিং করা হয়।
- 📌 বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চিতা বাঘ সাধারণত তিস্তা ও ধরলা নদীর অববাহিকা, চা-বাগান এবং উঁচু ফসলের খেত ধরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারে।
- 📌 আক্রমণে আহত হওয়ার পর আমঝোল এলাকায় হাজার হাজার মানুষ বাঘটি পিটিয়ে মারতে লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
📰 বিস্তারিত
লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে ২৫ অক্টোবর বিকেলে একটি চিতা বাঘের আক্রমণে শরীফা বেগমসহ তিনজন আহত হন। শরীফা বেগমের ছয়টি ছাগল ছিল, যার মধ্যে একটি ছাগল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ছাগলের সন্ধানে বেরিয়ে তিনি চিতা বাঘের সামনে পড়ে যান। বাঘটির আক্রমণে ছাগলটি নিহত হয় এবং শরীফা বেগম আহত হন। তাকে উদ্ধার করতে এসে আরো দুজন আহত হন।
বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্য প্রাণী পরিদর্শক আবদুল্লাহ আস সাদিক জানান, শরীফা বেগমের ছাগলের সন্ধানে বেরিয়ে তিনি চিতা বাঘের সামনে পড়ে যান। তিনি বলেন, চিতা বাঘের আক্রমণে ছাগলটি মারা গেছে এবং পায়ের ছাপ ও ছাগলের শরীরে কামড়ের গভীরতা থেকে নিশ্চিত হয়েছেন যে, এটি চিতা বাঘ।
সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে অনেকে গরু, ছাগল চরাতে দেন। ডুয়ার্স বা বক্সার জঙ্গল থেকে আসতে পারে চিতা বাঘ। আবদুল্লাহ আস সাদিক বলেন, আমঝোল সীমান্তে ভারতীয় অংশের সঙ্গেই একটি শালবন, বাঁশঝাড় ও বিস্তীর্ণ ধানিজমি আছে। এর বাইরে সীমান্তের কাছাকাছি ভারতের দুটি সংরক্ষিত বন আছে — ডুয়ার্স ও বক্সার। এ অঞ্চল ভারতীয় চিতা বাঘের প্রধান আবাসস্থল। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া যেভাবে দেওয়া আছে তাতে বাঘ আসার সুযোগ নেই। তবে সীমান্তের ভারতীয় অংশে বেশ কিছু বড় সেগুন ও শিমুলগাছ আছে। তাঁর ধারণা, চিতা বাঘ ক্ষিপ্রতার সঙ্গে গাছ বেয়ে উঠতে পারে এবং বাঘটি কোনো একটি গাছ বেয়ে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর লাফ দিয়ে বাংলাদেশ অংশে ঢুকে পড়েছে।
বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, বিজিবির সহায়তা নিয়ে গোতামারীসহ সীমান্তঘেঁষা পাঁচ ইউনিয়নে তল্লাশি চালানো হয়েছে। মানুষকে সতর্ক করতে মাইকিং করা হয়েছে। সর্বশেষ বিজিবির থার্মাল ড্রোনে বাঘটির সর্বশেষ অবস্থান ছিল সীমান্তের কাছাকাছি। সেটি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের বনে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
"আমঝোল গ্রামের বাসিন্দা শরীফা বেগমের ছয়টি ছাগল ছিল। এর মধ্যে একটি ছাগল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ছাগলের সন্ধানে বেরিয়ে তিনি চিতা বাঘের সামনে পড়ে যান। সাদিক বলেন, চিতা বাঘের আক্রমণে ছাগলটি মারা গেছে। পায়ের ছাপ ও ছাগলের শরীরে কামড়ের গভীরতা থেকে নিশ্চিত হয়েছেন, এটি চিতা বাঘ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্ত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শরীফা বেগম, আবদুল্লাহ আস সাদিক, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ অক্টোবর, পাঁচ ইউনিয়ন, হাজার হাজার মানুষ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!