📌 কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় ৪৪ বছর বয়সী নাজমা খাতুন গোয়ালঘরে আত্মহত্যা করেন। তিনি ফেসবুকে পরিচিত হিন্দু যুবক দুলাল চন্দ্রের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিয়ের আসরে হিন্দু পরিচয় প্রকাশ পেলে এলাকাবাসী বিয়ে বন্ধ করে দেন। পরে প্রভাবশালী মহল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিলেও নাজমা সামাজিক অপবাদ সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেন
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় সামাজিক অপবাদ সইতে না পেরে গোয়ালঘরে আত্মহত্যা করেছেন ৪৪ বছর বয়সী নাজমা খাতুন। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। নাজমা ফেসবুকে পরিচিত এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিন্তু বিয়ের আসরে হিন্দু পরিচয় প্রকাশ পেলে এলাকাবাসী বিয়ে বন্ধ করে দেন। পরে প্রভাবশালী মহল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিলেও নাজমা সামাজিক অপবাদ সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পশ্চিম নাওড়া এলাকায় ৪৪ বছর বয়সী নাজমা খাতুন গোয়ালঘরে আত্মহত্যা করেছেন।
- 📌 নাজমা ফেসবুকে পরিচিত দুলাল চন্দ্র (৫৩) নামের হিন্দু যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিয়ে করার চেষ্টা করেন।
- 📌 বিয়ের আসরে দুলাল চন্দ্রের হিন্দু পরিচয় প্রকাশ পেলে এলাকাবাসী বিয়ে বন্ধ করে দেন।
- 📌 প্রভাবশালী মহল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিলেও নাজমা সামাজিক অপবাদ সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেন।
- 📌 নাজমা খাতুনের স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে ছিলেন। তিনি ফেসবুকে পরিচিত দুলাল চন্দ্রকে রেল পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দিলেও পরে তার সত্য পরিচয় প্রকাশ পায়।
- 📌 দুলাল চন্দ্র নাজমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ও স্বর্ণ চুরি করে নেন।
📰 বিস্তারিত
উলিপুর থানার সূত্রে জানা গেছে, নাজমা খাতুন ধামশ্রেণি ইউনিয়নের পশ্চিম নাওড়া এলাকার আব্দুল খালেকের পরিত্যক্তা মেয়ে ছিলেন। প্রায় ছয় মাস ধরে তিনি ফেসবুকে পরিচিত দুলাল চন্দ্রের (৫৩) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। দুলাল চন্দ্র নিজেকে রেল পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দিলেও পরে তার সত্য পরিচয় প্রকাশ পায়। তিনি পার্শ্ববর্তী পান্ডুল ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি এলাকার হিন্দু পরিবারের ছেলে।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দুলাল চন্দ্র নাজমার বাড়িতে দেখা করার জন্য আসেন। এলাকাবাসী তাকে আটক করে রাখেন। পরে বিয়ের আয়োজন করা হলেও বিয়ের রেজিস্ট্রির জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র চাইলে দুলাল চন্দ্রের হিন্দু পরিচয় প্রকাশ পায়। এরপর বিয়ের আয়োজন বন্ধ হয়ে যায় এবং দুলাল চন্দ্রকে আটক করে রাখা হয়।
এ ঘটনা প্রকাশ পেলে ধামশ্রেণি ও পান্ডুল ইউনিয়নের প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মীমাংসা করতে বসেন। তারা দুলাল চন্দ্রকে ছেড়ে দেন এবং নাজমার পরিবারকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেন। কিন্তু নাজমা সামাজিক অপবাদ সইতে না পেরে রোববার দুপুরে নিজ বাড়ির গোয়ালঘরে আত্মহত্যা করেন।
উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শওকত আলী সরকার জানান, লাশ উদ্ধার করে বিকালে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হবে। নাজমা খাতুনের পরিবার অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
"সেখানে পান্ডুল বিএনপির নেতা জিয়াউল হক বাদলসহ আমরা অনেকেই উপস্থিত ছিলাম। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় শনিবার রাতে উভয়পক্ষের স্বজনদের নিয়ে মীমাংসা করা হয়। সেখানে ওই নারীর ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রতারক যুবকের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং সবার উপস্থিতিতে মেয়ের স্বজনদের টাকা বুঝে দেওয়া হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুড়িগ্রাম উপজেলা, উলিপুর থানা, পশ্চিম নাওড়া এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাজমা খাতুন (৪৪), দুলাল চন্দ্র (৫৩), জিয়াউল হক বাদল, শওকত আলী সরকার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৪ বছর বয়সী নাজমা, ৫৩ বছর বয়সী দুলাল চন্দ্র, ৬ মাস প্রেমের সম্পর্ক, ৩০ হাজার টাকা ও স্বর্ণ চুরি, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!