📌 খুলনা মহানগরী ও জেলায় চলতি বছরের ১০ মাসে ৭৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরোধের পেছনে এই রক্তপাত। নগরবাসীরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে
খুলনা মহানগরী ও জেলায় চলতি বছরের ১০ মাসে ৭৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা নগরবাসীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই রক্তপাতের পেছনে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরোধ কাজ করছে। সর্বশেষ সোমবার (৩ নভেম্বর) রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের সিংহের চর এলাকায় দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে একজন ছিলেন মেহেদী হাসান (৩৫) এবং অন্যজন রেজাউল করিম (৩০)।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত খুলনা মহানগরী ও জেলায় ৭৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে — এর মধ্যে মহানগরীতে ৩৭টি এবং জেলায় ৩৮টি
- 📌 সর্বশেষ ৩ নভেম্বর রূপসা উপজেলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মেহেদী হাসান (৩৫) ও রেজাউল করিম (৩০)
- 📌 ১ নভেম্বর মহানগর তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়
- 📌 ৩ নভেম্বর রাতে লবণচরা এলাকায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন শহীদুল শেখ (৩৫)
- 📌 খুলনায় সক্রিয় ৯টি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম এসেছে — তাদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র কারবার, চাঁদাবাজি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে
- 📌 খুলনা নগরীর ময়লাপোতা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল গফ্ফার বলেছেন, ‘একসময় খুলনাকে শান্তির নগরী বলা হতো, বর্তমানে আতঙ্কের শহরে পরিণত হয়েছে’
- 📌 পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরোধ কাজ করছে
📰 বিস্তারিত
খুলনা পুলিশ ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত খুলনা মহানগরী ও জেলায় ৭৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মহানগরীতে ৩৭টি এবং জেলায় ৩৮টি ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের তথ্য মতে, এই রক্তপাতের পেছনে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরোধ কাজ করছে।
সর্বশেষ ৩ নভেম্বর রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের সিংহের চর এলাকায় দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের একজন ছিলেন মেহেদী হাসান (৩৫) এবং অন্যজন রেজাউল করিম (৩০)। এর আগের দিন ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মহানগর তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে। একই রাতে লবণচরা এলাকায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন শহীদুল শেখ (৩৫)।
গত ৫ অক্টোবর রাতে রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের দুর্জনীমহল শহীদের মোড় ঢালী বাড়ির সামনে আক্তার ঢালী (৬০) নামের একজনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গত ১৫ আগস্ট আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকেও নৃশংসভাবে গলাকেটে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়াও, ৪ অক্টোবর খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইজখানা এলাকায় পূর্ব-বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (পিবিসিপি) নেতা মো. নাসিমুল করিমকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করা হয়।
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধের বেশির ভাগ ঘটনায় ঘুরেফিরে নয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম এসেছে। খুলনায় সক্রিয় অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর বি কোম্পানি, শেখ পলাশের পলাশ গ্রুপ, নূর আজিম গ্রুপ, আশিক বাহিনী, হুমায়ুন কবিরের হুমা বাহিনী, শেখ সাইদুর রহমান ওরফে শাওনের টেংকি শাওন গ্রুপ, আরমান শেখের আরমান গ্রুপ, শাকিল শেখের শাকিল গ্রুপ এবং নাসিম গ্রুপ। এই গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র কারবার, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
"একসময় খুলনাকে শান্তির নগরী বলা হতো। বর্তমানে আতংকের শহরে পরিণত হয়েছে। প্রায় হত্যাকান্ড, হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে। যে কারণে সাধারণ মানুষ আতংকের মধ্যে রয়েছে।"
— আব্দুল গফ্ফার, খুলনা নগরীর ময়লাপোতা এলাকার বাসিন্দা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা মহানগরী ও জেলা (রূপসা উপজেলা, দিঘলিয়া উপজেলা, খুলনা মেট্রোপলিটন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেহেদী হাসান (৩৫), রেজাউল করিম (৩০), সৈয়দ হুমায়ুন কবির, শহীদুল শেখ (৩৫), মো. নাসিমুল করিম (৫৫), আক্তার ঢালী (৬০), জয় ঢালী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫টি হত্যাকাণ্ড (১০ মাসে), ৩৭টি (মহানগরীতে), ৩৮টি (জেলায়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!