📌 জামালপুর থেকে গাজীপুর যাত্রায় বাসে ৫ লাখ টাকার লালসায় নিহত হন ইসমাইল হোসেন। বাসচালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধার করা হয় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে-তে।
জামালপুরের ইসমাইল হোসেন (৫০) জমি বিক্রির প্রায় ৫ লাখ টাকা নিয়ে গাজীপুর যাত্রায় বাসে চড়েন। কিন্তু লুঙ্গির কোচে থাকা টাকার লালসায় বাসের সুপারভাইজার ও চালক তাঁকে হত্যা করে এবং মরদেহ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে-তে ফেলে দেন। এই হত্যাকাণ্ডে বাসচালক সোহেল রানা (৪১), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) ও হেলপার মনির হোসেন (১৯)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫ লাখ টাকার লালসায় হত্যা: জামালপুর থেকে গাজীপুর যাত্রায় বাসে চড়া ইসমাইল হোসেনের লুঙ্গির কোচে থাকা টাকা দেখেই বাসের সুপারভাইজার ও চালক তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
- 📌 মরদেহ এক্সপ্রেসওয়ে-তে ফেলে রাখা: নিহতের হাত-মুখ স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে বাসের মধ্যেই গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে-তে ফেলে রাখা হয়।
- 📌 ৩ জন গ্রেপ্তার: বাসচালক সোহেল রানা (৪১), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) ও হেলপার মনির হোসেন (১৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- 📌 হত্যার পরিকল্পনা: ইসমাইলকে চান্দুরা বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দেওয়ার বদলে বাসটি ঢাকার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এক্সপ্রেসওয়ে-তে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়া হয়।
📰 বিস্তারিত
৪ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ৯টায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। তাঁর মুখ ও দুই হাত স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা ছিল। গলায়ও কালো দাগ পাওয়া যায়। পরে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাঁর নাম ইসমাইল হোসেন। পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে মরদেহের ছবি দেখে তাঁকে শনাক্ত করেন।
পুলিশ জানায়, নিহত ইসমাইল জামালপুর থেকে জমি বিক্রির প্রায় ৫ লাখ টাকা নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে যাচ্ছিলেন। তাঁর ছেলে হাসান জিরানী বাসস্ট্যান্ডে বাবার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। একপর্যায়ে ইসমাইলের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ বাসের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে করে। পরে জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসটি জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার করা তিনজন ব্যক্তির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে ইসমাইলকে ওই বাসে তোলা হয়। কিছুক্ষণ পর সুপারভাইজার সাজু ভাড়া চাইলে ইসমাইল কোমরের লুঙ্গির কোচ থেকে টাকা বের করে ভাড়া দেন। তখন তাঁর কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ টাকা দেখতে পান সাজু। পরে বিষয়টি তিনি চালককে জানান। ইসমাইলের কাছে অনেক টাকা রয়েছে বুঝতে পেরে তাঁরা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চান্দুরা বাসস্ট্যান্ডে ইসমাইলকে না নামিয়ে অন্য যাত্রীদের গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। ইসমাইলকে বলা হয়, তিনি যেন ঘুমিয়ে থাকেন। নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছালে তাঁকে ডেকে নামিয়ে দেওয়া হবে। ইসমাইল ঘুমিয়ে পড়লে বাসটি গাজীপুরের নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে ঢাকার দিকে নিয়ে আসা হয়। একপর্যায়ে সুপারভাইজার ও হেলপার মিলে তাঁর হাত ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন। পরে গামছা পেঁচিয়ে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
"নিহত ইসমাইলের কাছে জমি বিক্রির প্রায় ৫ লাখ টাকা ছিল। তবে গ্রেপ্তাররা পুরো টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা প্রায় আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বাকি টাকার বিষয়ে তদন্ত চলছে।"
নিহতের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘এই টাকাডা আছিল আমার শেষ সম্বল। স্বামী নাই, কামকাজও নাই। মেয়েগো বিয়া দিছি অনেক কষ্টে। দশ বছর ধরে একটু একটু কইরা টাকা জমাইছি। ভাবছিলাম, বিপদের সময় এই টাকাডা কাজে লাগামু। অহন সব শেষ হয়ে গেল। অহন আমি কী করমু?’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (বনানী), জামালপুর, গাজীপুর, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইসমাইল হোসেন (৫০), সোহেল রানা (৪১), সাজু ওরফে লিমন (২৬), মনির হোসেন (১৯), হাসান জিরানী, মনোয়ারা বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ লাখ টাকা (জমি বিক্রির), ৩ জন গ্রেপ্তার, ৪ সেপ্টেম্বর (ঘটনার তারিখ), ৬ সেপ্টেম্বর (সংবাদ সম্মেলন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!