📌 ঝালকাঠি জেলায় ‘বাংলার আপেল’ খ্যাত পেয়ারা চাষের লাভ কমে কৃষকদের আগ্রহ হ্রাস পাচ্ছে। গত দুই বছরে ৮ হেক্টর জমি কমে ৫৫৪ হেক্টর জমিতে চাষ করা হলেও উৎপাদন ও বিক্রি খরচের তুলনায় লাভ কমে যাচ্ছে। কৃষকরা অন্য ফসলে চাষ পরিবর্তন করছেন
ঝালকাঠি জেলার ‘বাংলার আপেল’ পেয়ারা চাষের ঐতিহ্য ধীরে ধ্বংসের মুখে পড়ছে। লাভ কমে কৃষকদের আগ্রহ হ্রাস পাচ্ছে এবং গত দুই বছরে চাষের জমি কমেছে আট হেক্টর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে জেলার চার উপজেলায় মাত্র ৫৫৪ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ হেক্টর কম। উৎপাদনও কমে ৫ হাজার ৬২৩ মেট্রিক টন থেকে ৬ হাজার ৪২ মেট্রিক টন হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঝালকাঠিতে পেয়ারা চাষের জমি কমেছে ৮ হেক্টর; ২০২৬ অর্থবছরে ৫৫৪ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে
- 📌 উৎপাদন কমেছে ৪১৯ মেট্রিক টন; ২০২৬ সালে ৫ হাজার ৬২৩ মেট্রিক টন পেয়ারা উৎপাদিত হয়েছে
- 📌 প্রতি মণ পেয়ারা বিক্রি হয় ৮০০-১০০০ টাকা; কিন্তু শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন ও খরচে প্রকৃত লাভ ১০০ টাকায় নেমে আসে
- 📌 কৃষক সুজন হালদার শানু বলেন, একই জমিতে আমড়া চাষ করলে লাভ বেশি হয়
- 📌 পেয়ারায় এনথ্রাক্স রোগের কারণে ফলন কমেছে; অনাবৃষ্টির কারণে ফলনও ভালো হয়নি
📰 বিস্তারিত
পেয়ারা চাষের মূল সমস্যা হলো উৎপাদন খরচ ও বিক্রি মূল্যের মধ্যে ব্যবধান। ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেয়ারা উৎপাদনের মোট মূল্য প্রায় ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তবে কৃষকদের কাছে লাভ কমে যাচ্ছে। কৃষক সুজন হালদার শানু বলেন, পেয়ারা সংগ্রহ, শ্রমিকের মজুরি, সার ও কীটনাশক প্রয়োগের খরচের তুলনায় বিক্রি মূল্য কম। তিনি বলেন, একই জমিতে আমড়া বা অন্য ফসল চাষ করলে লাভ বেশি হয়।
পাইকাররা বলছেন, ভিমরুলীর ভাসমান হাটে প্রতি মণ পেয়ারা ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তবে শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন ও খাবারের খরচ বাদ দিলে প্রকৃত লাভ প্রায় ১০০ টাকায় নেমে আসে। স্বরূপকাঠির পাইকার নোমান জানান, প্রতি মণ পেয়ারায় পাইকারি পর্যায়ে ২০০ টাকা লাভ থাকে, কিন্তু প্রকৃত লাভ কমে যায়।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পেয়ারা চাষে আগ্রহ ধরে রাখতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে চাষের জমি কমছে।
"পেয়ারা পাকতে শুরু করলে প্রতিদিন গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করতে হয়। এ কাজে একজন শ্রমিকের পেছনে প্রায় ৭০০ টাকা খরচ হয়। অথচ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওই পরিমাণ পেয়ারাই বিক্রি করে ৪০০ টাকা পাওয়া যায়।" — ভবেন্দ্রনাথ হালদার, কীর্তিপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও কৃষক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঝালকাঠি জেলা (বিশেষত চার উপজেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুজন হালদার শানু, ভবেন্দ্রনাথ হালদার, নোমান (পাইকার), মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫৪ হেক্টর (চাষের জমি), ৫ হাজার ৬২৩ মেট্রিক টন (উৎপাদন), ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা (মোট মূল্য), ৮০০-১০০০ টাকা (প্রতি মণ দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!