📌 সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সাক্ষী দুলাল মিয়ার পরিবারের বাড়িতে রাতের আক্রমণে পাঁচজন আহত হয়। হামলাকারীরা ঘর ভাঙচুর করে ছয়টি গরু, স্বর্ণালংকার ও টাকাপয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অভিযোগ ও প্রতিবাদে পাল্টাপাল্টি দাবি চলছে
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সাক্ষী দুলাল মিয়ার পরিবারের বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলায় পরিবারের পাঁচজন সদস্য আহত হন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও, পুলিশ ঘটনার পরপরই মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুনামগঞ্জ শাল্লা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সাক্ষী দুলাল মিয়ার বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা হয়। পাঁচজন আহত হন, ঘর ভাঙচুর ও ছয়টি গরু, স্বর্ণালংকার ও টাকাপয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
- 📌 দুলাল মিয়া অভিযোগ করেন, পুলিশ ২৯ অক্টোবর দোকানে চুরির ঘটনা তদন্ত করতে আসার পর গ্রামবাসীর ক্ষোভের কারণে এই হামলা সংঘটিত হয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বাবা ও বীরাঙ্গনা বোনের সন্তান।
- 📌 আবদুল হেকিম ও জালাল মিয়া পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, দুলাল মিয়ার পরিবার মাদক ব্যবসায় জড়িত। গত চার বছরে তাদের বিরুদ্ধে অন্তত ২৫টি মাদক ও চুরির মামলা হয়েছে।
- 📌 উজালা আক্তার (দুলাল মিয়ার মেয়ে) জানান, হামলাকারীরা এখনো হুমকি দিচ্ছেন। পরিবার শাল্লা উপজেলা সদরে আশ্রয় নিয়েছে এবং আজ থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
দুলাল মিয়া ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী ছিলেন। এই মামলায় ১১ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দুলাল মিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বাবা শহীদ হন এবং বোন বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি পেয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাঁর বাড়িতে আসার কারণ ছিল তাঁর সাক্ষী ভূমিকা এবং পুলিশের তদন্তের প্রতিক্রিয়া।
দুলাল মিয়ার মেয়ে উজালা আক্তার জানান, তাঁদের পরিবার গ্রামের দোকানে চুরির শিকার হয়েছিলেন। ২৩ অক্টোবর চুরি হয় এবং ২৯ অক্টোবর পুলিশ তদন্ত করতে আসে। এরপর গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ হন এবং হামলা সংঘটিত হয়। তিনি বলেন, হামলাকারীরা এখনো হুমকি দিচ্ছেন এবং তাঁরা শাল্লা উপজেলা সদরে আশ্রয় নিয়েছেন।
অভিযুক্ত জালাল মিয়া দাবি করেন, দুলাল মিয়ার পরিবার মাদক ব্যবসায় জড়িত। তিনি বলেন, এলাকার মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদ বারবার তাঁদের মাদক ব্যবসা থেকে সরে আসার অনুরোধ করেছিল। তবে তাঁরা তা করেননি। তিনি দাবি করেন, এই কারণে এলাকাবাসীরা তাঁদের ওপর হামলা করেছে।
"আমরা এর সঙ্গে জড়িত নই। এই পরিবার এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। এলাকার মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে বারবার তাঁদের এই ব্যবসা থেকে সরে আসার অনুরোধ করা হয়েছে।"
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সুহেল জানান, পরিবারটি এখন থানায় উপস্থিত। পুলিশ ঘটনার পরপরই মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলেও, সেটা পুলিশ দেখবে। তবে বাড়িতে হামলা করা যাবে না।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দৌলতপুর গ্রাম, শাল্লা উপজেলা, সুনামগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দুলাল মিয়া, উজালা আক্তার, জালাল মিয়া, আবদুল হেকিম, মোহাম্মদ সুহেল (ওসি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ জন আহত, ৬টি গরু, ২৫টি মাদক/চুরি মামলা, ১১ জন আসামি (মানবতাবিরোধী মামলা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!