📌 গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকরা ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি দাবিতে দ্বিতীয় দিনে সহিংসতা অব্যাহত রেখেছে। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে, ২৮ জন পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। সংসদ সদস্যরা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি দাবিতে দ্বিতীয় দিনে সহিংসতা চরমে পৌঁছেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। নাওজোর এলাকায় পুলিশের একাধিক গাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হয়েছেন। পাথরের আঘাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একজন সদস্য আহত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি দাবিতে দ্বিতীয় দিনে সহিংসতা চরমে পৌঁছেছে
- 📌 পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে, পুলিশের একজন সদস্য আহত
- 📌 তিনজন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন, তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে
- 📌 ২৮ জন পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে
- 📌 গাজীপুর-২ ও গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্যরা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন
- 📌 মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও শ্রমিকদের আন্দোলন থামেনি, ১৫০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন গত রোববার থেকেই চলছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টায় কালিয়াকৈরের মৌচাক, সফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সকাল ১০টায় কোনাবাড়ী এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের একটি বক্স ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের একটি মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) নাওজোর এলাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে পুলিশের একাধিক গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুর করা হয়েছে। আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সময় টেলিভিশনের একজন প্রতিবেদক ও ক্যামেরাপারসন হামলার শিকার হন। তাদের ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়েছে। আন্দোলনের কারণে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ১৫০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মস্থলে যেতে পারেননি। কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকায় তৈরি পোশাকশিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
শিল্পপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুদিনে এ আন্দোলনে ২৮ জন পুলিশ সদস্যসহ আরো বেশ কয়েক জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। সকাল থেকে সহিংসতা পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও বিজিবি পুলিশের তৎপরতায় বিকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি এবং গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পকারখানার পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। তারা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তারা বলেছেন, শ্রমিকদের আন্দোলনকে পুঁজি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা, নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা, সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তবে আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কেউ ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
"শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। তবে আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কেউ ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, নাওজোর এলাকা, কোনাবাড়ী, কালিয়াকৈর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এম মঞ্জুরুল করিম রনি, মো. মজিবুর রহমান, জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান, বিজিএমইএর পরিচালক এবিএম শামসুদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ হাজার টাকা (মজুরি), ২৮ জন (পুলিশসহ আহত), ১০ প্লাটুন (বিজিবি), ২১ জন (ম্যাজিস্ট্রেট), ১৫০টি (কারখানা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!