📌 ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদ নগরে বন্দুকধারী দখলদার মো. বাহার উল্লাহ বাহার প্রকাশ সরকারি দিঘি ও জলাশয় থেকে মাটি ও মাছ লুট করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি এসব দিঘি দখল করে নিয়েছেন। স্থানীয়রা দাবি করেন, তিনি এসব দিঘি থেকে প্রতি বছর লাখ টাকার মাছ ও মাটি বিক্রি করছেন
ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদ নগরে বন্দুকধারী দখলদার মো. বাহার উল্লাহ বাহার প্রকাশ সরকারি দিঘি ও জলাশয় থেকে মাটি ও মাছ লুট করছেন। স্থানীয়রা জানান, তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এসব দিঘি দখল করে নিয়েছেন এবং এখনও অবধি অবৈধভাবে মাছ ও মাটি লুট করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদ নগরে বন্দুকধারী দখলদার মো. বাহার উল্লাহ বাহার প্রকাশ সরকারি ১৭ দশমিক ৩৪ একর জমির দিঘি ও জলাশয় দখল করে নিয়েছেন।
- 📌 ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি এসব দিঘি থেকে প্রতি বছর লাখ টাকার মাছ ও মাটি লুট করছেন।
- 📌 দখলদারের বিরুদ্ধে ৪ আগস্টের মহিপালে ছাত্র হত্যা মামলাসহ একাধিক চুরি-ডাকাতি মামলা রয়েছে।
- 📌 তিনি আসন্ন ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি থেকে সদস্য পদে মনোনয়নের আশা করছেন।
- 📌 স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জানান, দিঘিগুলোর ইজারা নেই।
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, সরকারি সম্পত্তি দখল প্রমাণিত হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
📰 বিস্তারিত
ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদ নগরে অবস্থিত ফরহাদনগর ইউনিয়নের কেএমহাটে আদর্শগ্রাম সড়কের তীর ঘেঁষে অবস্থিত সরকারি দিঘি ও জলাশয় বন্দুকধারী দখলদার মো. বাহার উল্লাহ বাহার প্রকাশের দখলে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি এসব দিঘি থেকে প্রতি বছর লাখ টাকার মাছ ও মাটি লুট করে নিয়ে যাচ্ছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এই দখলদার দিঘিগুলো দখল করে নিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, এসব দিঘি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাছও লুট করা হচ্ছে। গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে তিনি মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন, যা বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে।
দখলদার মো. বাহার উল্লাহ বাহার প্রকাশ বন্দুক বাহার মধ্যম নৈরাজপুর সৈয়দ হাজী বাড়ির হাবিব উল্লাহর ছেলে। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি থেকে সদস্য পদে মনোনয়নের আশা করছেন। তার বিরুদ্ধে ৪ আগস্টের মহিপালে ছাত্র হত্যা মামলাসহ একাধিক চুরি-ডাকাতি মামলা রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেএমহাট থেকে আদর্শগ্রাম যাওয়ার পথে দুই পাশে চারটি দিঘি রয়েছে। প্রথম দিঘিতে বাহার সেচ দিচ্ছেন। পাশের আরেকটি দিঘি থেকে শ্রমিক দিয়ে পিক-আপে মাটি ভর্তি করা হচ্ছে। এসব মাটি আবার বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে।
"আমি ইজারা নিয়ে এসব দিঘি দেখাশোনা করি। আমি প্রতি বছর ২৫ হাজার টাকা কর দিয়ে থাকি। আমি দখল কেন করবো। আর এসব মাটি সড়ক ও পাড়ের সংস্কারে ব্যবহার করছি। বাহিরে যেগুলো যাচ্ছে সেগুলো কবরস্থানের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।"
ফেনী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহমিদা আক্তার জানান, “আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে, ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা বলেন, “নৈরাজপুর মৌজায় নদী ভরাট এবং সরকারি বা জনস্বার্থের জলাশয় অবৈধভাবে ভাগ করে দখল বা রূপান্তর করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি সরকারি সম্পত্তি বা নদী-জলাশয় দখল বা অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে আইনগতভাবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফেনী সদর উপজেলা, ফরহাদ নগর ইউনিয়ন, কেএমহাট-আদর্শগ্রাম সড়ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. বাহার উল্লাহ বাহার প্রকাশ (বন্দুক বাহার), ফেনী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহমিদা আক্তার, ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবুল মনসুর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ দশমিক ৩৪ একর (দখলকৃত জমি), ৫ আগস্ট ২০২৪ (গণঅভ্যুত্থান), ২৫ হাজার টাকা (বছরে কর), ১৫ থেকে ২০ দিন (মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!