📌 কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে মারা যান যশোরের মনিরামপুরের এক পরিবারের চার সদস্য। নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং দুই মেয়ে রুজাইনা (৬) ও সুনাইনা (৩) পাশাপাশি কবরে শায়িত। ১১ দিন পর তাদের মরদেহ গ্রামে পৌঁছায়, বাবা মতিয়ার রহমানের মৃত্যুশোকে ভেঙে পড়ে
কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে মারা যান যশোরের মনিরামপুর উপজেলার এক পরিবারের চার সদস্য। নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৬) ও সুনাইনা ইহানা (৩) পাশাপাশি চার কবরে শায়িত। ১১ দিন পর গতকাল বুধবার ভোরে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়, যা পরিবারের সদস্যদের জন্য হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে ১৭ অক্টোবর অগ্নিকাণ্ডে মারা যান নাহিদুর রহমান (৪১), আফসানা মতিন (৩৬), রুজাইনা ইনায়া (৬) ও সুনাইনা ইহানা (৩) — একই পরিবারের চার সদস্য।
- 📌 ১১ দিন পর ২৯ অক্টোবর ভোরে তাদের মরদেহ যশোরের মনিরামপুর গ্রামে পৌঁছায়, বাবা মতিয়ার রহমানের মৃত্যুশোকে ভেঙে পড়ে।
- 📌 ১৫ অক্টোবর ঢাকা থেকে কক্সবাজার সফরে যান পরিবার, ১৬ অক্টোবর টুপটুপ রিসোর্টে থাকতে শুরু করেন। ১৭ অক্টোবর অগ্নিকাণ্ডে মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়, তাদের মধ্যে চারজন এই পরিবারের সদস্য।
- 📌 আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ পরীক্ষার কারণে মরদেহ শনাক্তে ১১ দিন লেগে যায়। গত সোমবার বিকেলে পুলিশ ডিএনএ প্রতিবেদন পেয়ে মঙ্গলবার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
- 📌 নাহিদুরের বাবা মতিয়ার রহমান বলেন, “ছেলে শেষ কথায় বলেছিল, ‘বাবা, তোমার নাতনিরা সি-বিচে আছে, বাচ্চারা খেলছে। মঙ্গলবার ঢাকায় ফিরব’। আর কথা হবে না।”
📰 বিস্তারিত
১৭ অক্টোবর ভোরে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মারা যান নাহিদুর রহমানের পরিবারের চার সদস্য। এই পরিবারের সদস্যরা ঢাকার মিরপুর থেকে ১৫ অক্টোবর সকালে কক্সবাজার সফরে যান। ১৬ অক্টোবর তারা টুপটুপ রিসোর্টে উপস্থিত হন। অগ্নিকাণ্ডে মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়, তাদের মধ্যে চারজন এই পরিবারের সদস্য। আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ পরীক্ষার কারণে মরদেহ শনাক্ত করতে ১১ দিন সময় লেগে যায়। গত সোমবার বিকেলে কক্সবাজার পুলিশ ডিএনএ প্রতিবেদন পেয়ে আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। এরপর গত মঙ্গলবার দুপুরে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গতকাল ভোরে মরদেহগুলো যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের ‘ফারজানা ম্যানশন’ বাড়িতে পৌঁছায়। বাড়ির বারান্দায় বসে আছেন মতিয়ার রহমান। তাঁকে ঘিরে সান্ত্বনা দিচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। নাহিদুরের ফুফা আবদুল লতিফ রিসোর্টের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের তো একটা পরিবার শেষ হয়ে গেল!”
নাহিদুর রহমান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে চাকরি করতেন। তিনি ঢাকার মিরপুরে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। মনিরামপুর গ্রামে বাবা মতিয়ার রহমান একাই থাকতেন। নাহিদুরের শেষ কথা শুনে মতিয়ার রহমানের কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “ছুটিতে গ্রামে এলে নাতনিরা মাতিয়ে রাখত বাড়ি। কত খেলা করতাম। আর কিছু হবে না। ফুলের মতো মাছুম বাচ্চারাও পুড়ে মারা গেছে।”
"বাবা, তুমি চিন্তা কোরো না। তোমার নাতনিরা সি-বিচে আছে, বাচ্চারা খেলছে। মঙ্গলবার ঢাকায় ফিরব। বুধবার তুমি ঢাকার বাসায় চলে যেয়ো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোরের মনিরামপুর উপজেলা (মোহনপুর গ্রাম), কক্সবাজার (টুপটুপ রিসোর্ট), ঢাকার মিরপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাহিদুর রহমান (৪১), আফসানা মতিন (৩৬), রুজাইনা ইনায়া (৬), সুনাইনা ইহানা (৩), মতিয়ার রহমান (বাবা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ জন (একই পরিবারের সদস্য), ১০ জন (মোট মৃত্যু), ১১ দিন (মরদেহ শনাক্তে সময়), ১৫-১৭ অক্টোবর (সফর ও অগ্নিকাণ্ডের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!