📌 ঢাকার সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন ফলের আড়ত বাদামতলীতে প্রতিদিন ট্রাক থেকে সরাসরি নিলামে ফল বিক্রি হয়। ১৯৩৫ সালে শুরু হওয়া এই বাজারে ২৫০টি আড়ত রয়েছে এবং দেশি-বিদেশি ফলের দামের বিস্তারিত জানুন।
ঢাকার প্রাচীনতম ফলের বাজার বাদামতলীতে প্রতিদিন ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত চলতে থাকে ফলের নিলামের ব্যস্ততা। ১৯৩৫ সালে হাসান আলী ঢালী ও তার সহকর্মীদের দ্বারা শুরু হওয়া এই বাজার বর্তমানে সদরঘাট ও বাবুবাজারের মাঝামাঝি অবস্থিত। বুড়িগঙ্গার তীরে গড়ে ওঠা এই বাজারে প্রতিদিন ৩০টি ট্রাকেরও বেশি ফল নিলামে বিক্রি হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাদামতলী ফলের আড়ত ১৯৩৫ সাল থেকে চলে আসছে, বর্তমানে ২৫০টি আড়ত নিয়ে বিস্তৃত
- 📌 প্রতিদিন ৩০টি ট্রাকের বেশি ফল নিলামে বিক্রি হয়, দরদামের ব্যস্ততা ভোর থেকে ১১টা পর্যন্ত
- 📌 জুরাইন থেকে এসেছেন আবদুর রহমান, ৩ হাজার ৯০০ টাকায় কিনেছেন আপেল ও ২ হাজার টাকায় মাল্টা
- 📌 ব্যাগিং করা কাটিমন আমের দাম প্রতি কেজি ১৫০-১৮০ টাকা, ব্যাগিং ছাড়া ১৮০ টাকা
- 📌 আশ্বিনা আমের দাম প্রতি কেজি ১৮০-২২০ টাকা, বিদেশি ফল যেমন আপেল, কমলা, মাল্টা ও আঙুরের দামও উল্লেখযোগ্য
📰 বিস্তারিত
বাদামতলী ফলের আড়ত ঢাকার সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন ফলের বাজার। বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত এই বাজার থেকে শুরু করে বাবুবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত। বাজারের নামকরণের পেছনে রয়েছে একটি কিংবদন্তি — একসময় এই ঘাটে বিশাল বাদামগাছ ছিল। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয়ে বিকাল ১১টা পর্যন্ত চলতে থাকে ফলের নিলাম। ট্রাক থেকেই সরাসরি ফল বিক্রি হয়। বিভিন্ন জেলা থেকে রাতে আসা ফলের ট্রাকগুলো ঘাটে পৌঁছার সাথে সাথে ঘিরে ধরেন ব্যাপারী ও পাইকারেরা।
বাদামতলীর আড়তদাররা ভোর না হতেই ফল কিনে নেওয়ার পর বাকি ফলগুলো ট্রাকের ওপর থেকেই নিলামে বিক্রির জন্য হাঁকতে থাকেন। একসঙ্গে ৩০টির বেশি ট্রাকে চলে নিলাম। ট্রাকের সামনে অগুনতি ক্রেতা। ট্রাক থেকে কেউ মেলে ধরছেন আপেলের কার্টন, কেউ মাল্টা, কেউবা কমলা বা আঙুরের বক্স। বিক্রেতা তাঁর দাম হাঁকেন। সেই দামের সঙ্গে মিল রেখে ক্রেতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে যিনি নিতে চান তিনি হাত তুলে জানান। বিক্রেতার কাছে ক্রেতার দাম পছন্দ হলে গাড়ি থেকেই ক্রেতার হাতে ছুড়ে মারেন সদ্য কেনা কার্টনের ফল।
বাদামতলীতে ফলের দাম ঋতুভেদে পরিবর্তিত হয়। জ্যৈষ্ঠ থেকে ভাদ্র মাসে আম, লিচু, লটকন, কাঁঠাল ও আনারসের উৎসব। কাটিমন আমের দাম ব্যাগিং করা হলে প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, ব্যাগিং ছাড়া ১৮০ টাকা। আশ্বিনা আমের দাম প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। জুরাইন থেকে এসেছেন আবদুর রহমান, তিনি জানান, ৩ হাজার ৯০০ টাকায় কিনেছেন আপেল ও ২ হাজার টাকায় মাল্টা।
"আমের গুণগত মান এবং ব্যাগিং করা ও না-করার ওপর ভিত্তি করে দরদাম ওঠানামা করে। ব্যাগিং করা আমের দাম বেশি থাকে কারণ রোগ পোকার আক্রমণ কম হয় এবং আম থাকে একদম সতেজ।"
বাদামতলীতে দেশি ফলের পাশাপাশি বিদেশি ফলও বিক্রি হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, নিউজিল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, পোল্যান্ড ও চীন থেকে আসা আপেল, মাল্টা, কমলা ও আঙুরের চাহিদা বারো মাসই থাকে। ১৮-১৯ কেজি ওজনের এক কার্টন আপেলের দাম পড়ে ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৬ হাজার ৩০০ টাকা। ১৮-১৯ কেজি ওজনের এক কার্টন বড় আকারের কমলা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা। প্রতি ১৫ কেজি ওজনের কার্টনের হলুদ মাল্টার দাম ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ১০০ টাকা। প্রতি ৭ কেজি ওজনের লাল আঙুর ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৭৫০ টাকা আর সাদাটে সবুজ আঙুর ২ হাজার টাকা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাদামতলী, ঢাকা (সদরঘাট ও বাবুবাজারের মাঝামাঝি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাসান আলী ঢালী, আবদুর রহমান, রাসেল লাকুড়িয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫০টি আড়ত, ৩০টি ট্রাক, ৩ হাজার ৯০০ টাকা (আপেল), ২ হাজার টাকা (মাল্টা), ১৫০-১৮০ টাকা (কাটিমন আম), ১৮০-২২০ টাকা (আশ্বিনা আম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!