📌 ঢাকার পুরান চকবাজারে আগুনে মুনসুর খান প্লাজা ও আরএম প্লাজার গুদামগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি মালপত্র পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, কিন্তু পণ্য সরিয়ে পানি দেওয়া চলছে
ঢাকার পুরান চকবাজারে গত সোমবার বিকেলে আগুন লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুনসুর খান প্লাজা ও পাশের আরএম প্লাজার গুদামগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্লাস্টিক পণ্য, ব্যাগ, প্রসাধনসামগ্রী ও ইলেকট্রনিকসের গুদামগুলোতে আগুন লেগে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি মালপত্র পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চকবাজারে আগুনে মুনসুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলা ও আরএম প্লাজার ষষ্ঠ-সপ্তম তলা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- 📌 ১ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি মালপত্র পুড়ে গেছে — করিম ব্যাগ হাউসের স্বত্বাধিকারী আব্দুল করিমের গুদামে ক্ষতি হয়েছে।
- 📌 ১২-১৪টি গুদামসহ পাশের দোকানগুলোর মালপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।
- 📌 ফায়ার সার্ভিসের ৪ জন সদস্য ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।
- 📌 আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, কিন্তু গুদামের ভেতরে জমে থাকা ধোঁয়া ও তাপের কারণে পানি দেওয়া চলছে।
- 📌 আগুনের সম্ভাব্য কারণ শর্টসার্কিট, তবে তদন্তের পর নিশ্চিত করা হবে।
📰 বিস্তারিত
গত সোমবার বিকেলে চকবাজারে আগুন লাগা মুনসুর খান প্লাজা ভবনটি পুরোটাই ব্যবহৃত হতো প্লাস্টিক পণ্য, ব্যাগ, প্রসাধনসামগ্রী ও ইলেকট্রনিকসের গুদাম হিসেবে। আগুনে মুনসুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলার প্রায় সব মালপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পাশের আরএম প্লাজার ষষ্ঠ ও সপ্তম তলাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু একটি গুদামেই ১ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি মালপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুনসুর খান প্লাজার প্রথম থেকে তৃতীয় তলা মার্কেট এবং ওপরের তলাগুলোতে গুদাম ছিল।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, আগুন লাগার পর লালবাগ, সিদ্দিকবাজার ও পলাশী থেকে ছয়টি ইউনিট পাঠানো হয়েছিল। পরে আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ভোর ৫টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও গুদামের ভেতরে প্রচুর ধোঁয়া ও তাপ থাকায় পানি দেওয়া ও মালপত্র সরানোর কাজ চলছে। তিনি বলেন, গুদামগুলো শাটার ও তালা দিয়ে বন্ধ থাকায় তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভাতে হয়েছে। সরু সড়ক, যানজট এবং পানির রিজার্ভারগুলো বারবার খালি হয়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহেও সমস্যা হয়েছিল।
আব্দুল করিম, করিম ব্যাগ হাউসের স্বত্বাধিকারী, বলেন, তাঁর গুদামে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি মালপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্মচারী মো. সাকিব জানান, আগুনের তীব্রতা কমলেও ধোঁয়ায় মালপত্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কালার কসমেটিকস ও ব্যাগের গুদামে থাকা পণ্য ধোঁয়ায় কালো হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
"গুদামগুলোতে ছাতা, প্রসাধনসামগ্রী, আতর, আতরের বোতলসহ বিভিন্ন পণ্য মজুত ছিল। এসব মালপত্রের নিচে তাপ ও ধোঁয়া থাকায় পণ্য সরিয়ে পানি দিতে হচ্ছে। সেগুলো সরানো না হলে আবার আগুন জ্বলে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চকবাজার, পুরান ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুল করিম (স্বত্বাধিকারী), কাজী নজমুজ্জামান (ফায়ার সার্ভিস সহকারী পরিচালক), মো. সাকিব (কর্মচারী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ কোটি ১০ লাখ টাকা (ক্ষতিগ্রস্ত মালপত্র), ১২-১৪টি গুদাম, ৪ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য (চিকিৎসাধীন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!