📌 যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি সীমিত করছে। হোম অফিসের নতুন নীতিমালা অনুসারে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে ২৩ শতাংশে পৌঁছেছে। ২২টি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধ বা সীমিত করা হয়েছে, ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে
যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি সীমিত করছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ার শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রত্যাহারের হার দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৭ দশমিক ১ শতাংশ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি সীমিত বা বন্ধ করেছে ২২টি প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
- 📌 হোম অফিসের নতুন নীতিমালা অনুসারে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশের নিচে নেওয়া হয়েছে।
- 📌 কোর্স সম্পন্ন করার ন্যূনতম হার বাড়িয়ে ৯৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগের ৯০ শতাংশ থেকে আরও কঠোর।
- 📌 পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাহারের হার বেড়ে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, নাইজেরীয়দের ক্ষেত্রে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ।
- 📌 ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক স্টিভেন ম্যাকগুয়্যার বলেছেন, ভিসা প্রত্যাখ্যান বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রস্তাব প্রত্যাহার শুরু করেছে।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) গত ১ জুন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ‘বেসিক কমপ্লায়েন্স অ্যাসেসমেন্ট’ নীতিমালা কার্যকর করেছে। এই নীতিমালা অনুসারে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে ৫ শতাংশের নিচে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, কোর্স সম্পন্ন করার ন্যূনতম হার বাড়িয়ে ৯৫ শতাংশ করা হয়েছে। বর্তমানে এই হার ৮৫ শতাংশ, যা ২০২৭ সালের জুন থেকে ৯০ শতাংশে বাড়ানো হবে।
নতুন রেড, অ্যাম্বার ও গ্রিন মূল্যায়নব্যবস্থায় শর্ত পূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানকে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে হতে পারে। গুরুতর বা বারবার ব্যর্থতার ক্ষেত্রে স্পনসর লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকিও রয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রত্যাহারের হার দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ হার বেড়ে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে নাইজেরীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে হারটি ২২ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি সীমিত বা বন্ধ করার তথ্য প্রথম আলো সংগ্রহ করেছে। এতে অন্তত ৪২টি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাম্পাস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ, আঞ্চলিক অথবা কোর্সভিত্তিক ভর্তিতে বিধিনিষেধের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২২টি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধ বা সীমিত থাকার কথা বলা হয়েছে। আর ২০টিতে বিশেষভাবে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ওপর পৃথক বিধিনিষেধ আরোপের তথ্য রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি, কিল ইউনিভার্সিটি, ডি মন্টফোর্ট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, ইউনিভার্সিটি অব সান্ডারল্যান্ড, কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব ব্র্যাডফোর্ডে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ভর্তি সীমিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার, ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটন, ক্যান্টারবেরি ক্রাইস্ট চার্চ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ব্রাইটন, কার্ডিফ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, অক্সফোর্ড ব্রুকস ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক বিধিনিষেধ রয়েছে।
"ভিসা প্রত্যাখ্যান বেড়ে যাওয়ায় আমাদের প্রতিষ্ঠান কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রস্তাব প্রত্যাহার শুরু করেছে। বাংলাদেশিদের ভর্তিতে ৪২ প্রতিষ্ঠানে বিধিনিষেধের তথ্য পাওয়া গেছে।"
যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়োগ ও উচ্চশিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল অ্যাডমিশনের সিনিয়র রিক্রুটমেন্ট কনসালট্যান্ট মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, হোম অফিসের নতুন কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা, ভাষা দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোরভাবে যাচাই করছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাজ্য, লন্ডন, সিলেট (বাংলাদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক স্টিভেন ম্যাকগুয়্যার (ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর), মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান (গ্লোবাল অ্যাডমিশন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩.৫% (বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাহার হার), ৪০.৯% (পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাহার হার), ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধ, ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিধিনিষেধ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!