📌 চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় অবস্থিত ঝুঁকিপূর্ণ পায়েল সেতু দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করছেন। সেতুটি ১৯৯৯ সালে নির্মিত হলেও বর্তমানে বেহাল অবস্থায় থাকায় স্থানীয়রা দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানাচ্ছেন। উপজেলা প্রকৌশলী বলেছেন, নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ হরিণা পুরান পাড়া এলাকায় অবস্থিত ঝুঁকিপূর্ণ পায়েল সেতু দিয়ে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮টি গ্রামের শত শত মানুষ চলাচল করছেন। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা এই সেতুতে সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় ১৯৯৯ সালে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ পায়েল সেতু দিয়ে প্রতিদিন ৭-৮টি গ্রামের শত শত মানুষ চলাচল করছেন
- 📌 সেতুর গোড়া অংশও ঝুঁকিপূর্ণ বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন, বিপরীত দিক থেকে যানবাহন এলে প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়
- 📌 অ্যাম্বুলেন্সে রোগী বা লাশ নিয়ে যাতায়াতের সময়ও সেতু পার হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে
- 📌 স্থানীয়রা দাবি করছেন, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও কর্তৃপক্ষের আশ্বাস থাকলেও দীর্ঘ সময় পরেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি
- 📌 উপজেলা প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেছেন, পুরাতন সেতু সংস্কার করলেও দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়া যাবে না, তাই নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ হরিণা পুরান পাড়া এলাকায় অবস্থিত এই ঝুঁকিপূর্ণ পায়েল সেতুটি ১৯৯৯ সালে নির্মিত হলেও বর্তমানে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, মোটরসাইকেল ও সাইকেল চলাচল করে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে এই সেতু ব্যবহার করতে হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, বিপরীত দিক থেকে যানবাহন এলে পাশ কাটাতে গিয়ে প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগী বা লাশ নিয়ে এলেও সেতুর পরবর্তী অংশে যাতায়াতে সমস্যা হয়। রাতে অন্ধকারে বা অসাবধানতাবশত চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়রা দাবি করছেন, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেতুটি পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রায় সাত মাস ধরে বিভিন্ন লোকজন এসে সেতুটির ছবি তুলে দ্রুত কাজ শুরুর আশ্বাস দিচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই। বড় কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।
"প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ শত শত মানুষ এই সেতু দিয়ে চলাচল করেন। সেতুটির গোড়াও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। মেরামত কিংবা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।"
স্কুলশিক্ষার্থী মোহাম্মদ রিশতাক আলভী, আবদুর রহমান ও মিসকাত জানিয়েছেন, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার সময় তাদের এই সেতু ব্যবহার করতে হয়। সেতুটি দিয়ে চলাচলের সময় তারা আতঙ্কে থাকে। জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মোহাম্মদ বেলাল বলেছেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ যানবাহন ও সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হওয়ার সময় চালক ও যাত্রীদের আতঙ্কে থাকতে হয়।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেছেন, সেতুটি অনেক পুরোনো এবং বর্তমানে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, এটি সংস্কার করা হলেও দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়া যাবে না। তাই নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন পেলে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা, আধুনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ হরিণা পুরান পাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উপজেলা প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ, মোহাম্মদ রিশতাক আলভী, মোহাম্মদ বেলাল, কামাল উদ্দিন, শমশুল ইসলাম, আমির হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭-৮টি গ্রামের মানুষ, ১৯৯৯ (সেতু নির্মাণের বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!