📌 আইআইইউসি-এর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লরির ধাক্কায় মিনিবাসের নিচে চাপা পড়ে মারা যান। দুর্ঘটনায় আরো তিনজন আহত হন। শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে দুর্ঘটনার প্রতিবাদ জানান
আইআইইউসি-এর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দুঃখে ভেঙ্গে পড়েছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লরির ধাক্কায় মিনিবাসের নিচে চাপা পড়ার ঘটনায় মাইশা মারা যান। দুর্ঘটনায় আরো তিনজন আহত হন। বাবা দিদারুল আলম বলেছেন, ‘আমার একমাত্র মেয়ে। এখন সব শেষ।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২২ বছর বয়সী আইআইইউসি-এর শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লরির ধাক্কায় মিনিবাসের নিচে চাপা পড়ে মারা যান।
- 📌 মৃত্যু ঘটে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে। দুর্ঘটনায় আরো তিনজন আহত হন, তাদের মধ্যে একজন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
- 📌 মাইশার মা সালমা আক্তার বলেছেন, ‘আমার মেয়ের স্বপ্ন ছিল চাকরি করবে। পড়ালেখায় ভালো ছিল।’
- 📌 মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার প্রতিবাদ জানান। মহানগর প্রভাতী ও এক্সপ্রেস ট্রেনসহ বাসের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।
- 📌 দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় লরিরা প্রতিযোগিতা করে মিনিবাসকে ধাক্কা দেয়। লরিরা আটকানো হয়, পরে পুলিশ তাদের নিয়ে যায়।
📰 বিস্তারিত
মাইশা মুশফিরাতের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার দুঃখে ভেঙ্গে পড়েছেন। বাবা দিদারুল আলম বলেছেন, ‘আমার একমাত্র মেয়ে। গত শুক্রবার তাঁর জন্মদিন পালন করেছি। এখন সব শেষ।’ মাইশা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন ইংরেজি বিভাগে। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লরির ধাক্কায় মিনিবাসের নিচে চাপা পড়ার ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে এই দুর্ঘটনায় আরো এক ছাত্রীসহ তিনজন আহত হন।
মাইশার মা সালমা আক্তার বলেছেন, ‘আমি মেয়েকে হারিয়েছি। মেয়ের সঙ্গে দু’মিনিট কথা হয়েছিল। তিনি মাথাব্যথা করতেন। শিক্ষক তাঁকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘আপনার মেয়ে দুর্ঘটনা করেছে। হাসপাতালে আসুন।’ মাইশার মৃত্যুতে তাঁর পরিবার দুঃখে ভেঙ্গে পড়েছেন। দিদারুল আলম বলেছেন, ‘আমার তিন ছেলে। এক মেয়ে। এখন মেয়েটা নাই।’
দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুটি লরি প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছিল। একটি লরি থেমে থাকা মিনিবাসকে ধাক্কা দেয়। এতে মিনিবাসটি কাত হয়ে উল্টে পড়ে। বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক এলাকায় মিনিবাস থেকে মাইশা নামেন। এরপর মিনিবাসটি তাঁর ওপর উল্টে পড়ে। একই ঘটনায় আরো তিনজন আহত হন। স্থানীয় লোকজন লরি দুটি আটকান। পরে পুলিশ লরি দুটি ও মিনিবাস থানায় নিয়ে যায়।
মাইশার মৃত্যুর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা পদচারী-সেতু নির্মাণের দাবি জানান। অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজট হয়। সীতাকুণ্ড ও ফৌজদারহাট স্টেশনে মহানগর প্রভাতী ও মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনসহ বাসের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। চট্টগ্রাম থেকে মহানগর গোধূলী ছাড়তেও বিলম্ব হয়।
"আমার মেয়ের স্বপ্ন ছিল চাকরি করবে। বড় হবে পড়ালেখা করে। পড়ালেখায় ভালো ছিল।"
— মাইশার মা সালমা আক্তার
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, আইআইইউসি প্রধান ফটক, সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়ন, মিরসরাই উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাইশা মুশফিরাত (মৃত), দিদারুল আলম (বাবা), সালমা আক্তার (মা), মোস্তফা মুনির চৌধুরী (বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ বছর (মাইশার বয়স), ৯:৩০ (মৃত্যু সময়), ১১:০০ (অবরোধ শুরু), ১০ কিলোমিটার (অবরোধের দৈর্ঘ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!