📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যবসায়ী নিঝুমের কাছ থেকে ৪০ ভরি (৮০ লাখ টাকা মূল্যের) সোনা ছিনতাই করা হয়। পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ চারজন আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। উদ্ধার হয় সাড়ে ২০ ভরি সোনা। জাকিরসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি সোনা উদ্ধারের অভিযান চলছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যবসায়ী নিঝুমের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকার মূল্যের ৪০ ভরি সোনা ছিনতাই করা হয়। ঘটনার এক মাস পর পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ চারজন আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের তদন্তে সাড়ে ২০ ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে জাকিরসহ দুজন আসামি, যাদের আদালতে তোলা হবে রোববার দুপুরে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৮ আগস্ট রাতে ব্যবসায়ী নিঝুমের কাছ থেকে ৪০ ভরি (৮০ লাখ টাকা মূল্যের) সোনা ছিনতাই করা হয়।
- 📌 পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ চারজন আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- 📌 উদ্ধার করা হয়েছে সাড়ে ২০ ভরি সোনা। বাকি ২০ ভরি সোনা উদ্ধারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
- 📌 জাকির হোসেনের বাড়ি রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।
- 📌 মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের আবেদন করতে পারেন। পুলিশ সুপার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রস্তুত করেছেন।
📰 বিস্তারিত
গতকাল শনিবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিঝুম। মামলায় পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ চারজন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছে জাকির হোসেন, মোহাম্মদ আলী এবং একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি।
মামলার পর রাতেই এজাহারভুক্ত আসামি ও বাদীর দুলাভাই মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বাড়ি থেকেই রাতে সাড়ে ২০ ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়। জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জাকির হোসেনের বাড়ি রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন। ঘটনাস্থল ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে মরা পাগলা নদীর কালীনগর ব্রিজের পাশে। গত ৮ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে সোনা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। গলিত অবস্থায় থাকা সোনা রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কাছে পাঠানো হয়েছিল।
সোনার চালানটি নিয়ে যান নিঝুমের দুলাভাই মোহাম্মদ আলী। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জাকির হোসেন মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. নয়নের বন্ধু। সোনার চালানটি হস্তান্তরের দুই মিনিটের মধ্যে জাকিরসহ দুজন আসামি হাজির হন এবং পুলিশ পরিচয়ে সোনা নিয়ে চলে যান। এরপর জাকির এক মাসের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দেন তিনি। পরে তাঁকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
মামলার পর পুলিশ লাইনস থেকেই জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলী পুলিশকে ২০ ভরি সোনা দেওয়ার সময় জানিয়েছেন যে বাকি ২০ ভরি সোনা জাকির হোসেনের কাছে আছে। তিনি সোনার চালান নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জাকিরকে জানিয়েছিলেন। সোনা হস্তান্তরের পর জাকির অভিযানের নামে সোনা ছিনিয়ে নেন। পরবর্তীতে ৪০ ভরি সোনা ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়। তবে জাকির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি এবং বাকি সোনা বের করে দেননি।
"সোনা হস্তান্তরের পর জাকির অভিযানের নামে ওই সোনা ছিনিয়ে নেন। পরবর্তীতে ৪০ ভরি সোনা তাঁরা ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন"
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে জাকির হোসেনসহ দুজনকে তাঁর অ্যাপাচি মোটরসাইকেল নিয়ে কালীনগর ব্রিজের দিকে যেতে দেখা যায়। ঘটনার দিন, আগের দিন ও পরদিন মোহাম্মদ আলী ও তাঁর ছেলে নয়নের সঙ্গে অসংখ্যবার মোবাইলে কথা হয়েছে জাকিরের। ঘটনার দুই দিন আগে ৬ আগস্ট জাকির তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে নয়নের মোবাইল নম্বরে ১০ বার কথা বলেছেন। আগের দিন ৭ আগস্ট একই নম্বরে জাকির কথা বলেছেন ২৫ বার। সেদিন মোহাম্মদ আলীর নম্বরেও কথা বলেছেন ৭ বার। ঘটনার দিন ৮ আগস্ট জাকির ও নয়নের মোবাইলে কথা হয়েছে ১০ বার। একই দিন নয়নের বাবা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে জাকিরের কথা হয়েছে ১১ বার। তবে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের পরদিন নয়ন কিংবা তার বাবা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে জাকিরের কোনো কথা হয়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, মরা পাগলা নদীর কালীনগর ব্রিজ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেন, মোহাম্মদ আলী, ব্যবসায়ী নিঝুম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ লাখ টাকা (৪০ ভরি সোনা), ২০ ভরি (উদ্ধার), ৮ আগস্ট (ঘটনা), ৩ টা (বেলা), ১০ বার (মোবাইল কথা), ২৫ বার (মোবাইল কথা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!