📌 বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি বসতঘরের মেঝেতে ‘জেগে ওঠা’ দুটি কবর নিয়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে। কথিত চিকিৎসা নিতে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের ভিড় লেগেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, কবর দুটি বড় পীরদের। প্রশাসন তদন্তের কথা বলেছে
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কদমবাড়ি গ্রামে একটি বসতঘরের মেঝেতে ‘জেগে ওঠা’ দুটি কবর নিয়ে স্থানীয়রা আজকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কথিত চিকিৎসা নিতে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের ভিড় লেগেছে এই বাড়িতে। স্থানীয় ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী দাবি করছেন, তিনি ধ্যানের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। কিন্তু কবর দুটি ‘জেগে ওঠা’ দাবি নিয়ে প্রশাসন ও ধর্মীয় নেতারা সতর্কতা জ্ঞাপন করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টায় বসতঘরের মেঝেতে প্রথম কবর ‘জেগে ওঠে’; রাত ১২টায় পাশেই আরেকটি কবর দেখা যায়
- 📌 সজীব বেপারী দাবি করছেন, কবর দুটি বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি ও খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর। তিনি নিজে ধ্যানের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন
- 📌 প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন ও প্রতি সোমবার সহস্রাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। কবর দুটি গামছা ও ফুলের মালা দিয়ে ঢাকা রাখা
- 📌 আগৈলঝাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফজলুল হক বলেছেন, ‘ইসলামে এ ধরনের ঘটনার কোনো ভিত্তি নেই। প্রশাসন তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বের হবে’
- 📌 আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান ও উপজেলা ইউএনও নিরুপম মজুমদার বলেছেন, ‘সরেজমিন তদন্তের পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে’
📰 বিস্তারিত
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামে অবস্থিত ছালাম বেপারীর বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয়রা জানান, গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টায় প্রথম কবর ‘জেগে ওঠে’। একই দিন রাত ১২টায় তার পাশেই আরেকটি কবর দেখা যায়। এই ঘটনার পর থেকে বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড় বেড়েছে। কবর দুটির দৈর্ঘ্য যথাক্রমে দুই হাত ও তিন হাত। বাঁশের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে ঘেরাও করা হয়েছে এই কবর দুটি।
সজীব বেপারী দাবি করছেন, তিনি ছয় মাস আগে নিজ বাড়িতে স্বপ্ন পেয়ে ধ্যানে বসেন। এরপর তিনি নিজে সুস্থ হন এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করছেন। তার মা শিউলী বেগম বলেন, ‘তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ হননি। ছয় মাস আগে স্বপ্ন পাওয়ার পর ধ্যানে বসেন তিনি।’ সজীবের দাবি, কবর দুটি বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি ও খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর।
আগৈলঝাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফজলুল হক বলেছেন, ‘ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের ঘটনার কোনও নজির বা ভিত্তি নেই। মূলত ঝাড়ফুঁকের ব্যবসা জমজমাট করতেই এ ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছে। প্রশাসন তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’
"ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের ঘটনার কোনও নজির বা ভিত্তি নেই। প্রশাসন তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। মূলত ঝাড়ফুঁকের ব্যবসা জমজমাট করতেই এ ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কদমবাড়ি গ্রাম, বাকাল ইউনিয়ন, আগৈলঝাড়া উপজেলা, বরিশাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সজীব বেপারী, শিউলী বেগম, মাওলানা ফজলুল হক, মোহাম্মদ মাসুদ খান, নিরুপম মজুমদার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ অক্টোবর, ৪০-৫০ জন, ১০ টা, ১২ টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!